নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একটি কাটিং ড্রেজারসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। এ সময় একটি অ্যান্কর বোট, একটি হাউস বোট, এক হাজার ফুট পাইপ এবং সদ্য উত্তোলিত আনুমানিক ৭ হাজার ৫০০ ঘনফুট বালু ও মাটি জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন ছনপাড়া গ্রামের পূর্ব পাশে মেঘনা নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার দুজনকে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে। নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করে আসছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নৌ পুলিশের টহল দলের ইনচার্জ এসআই আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল নদীতে অভিযান চালায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার চর কালিকাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান শেখের ছেলে আব্দুল খালেক (২৪), যিনি ড্রেজারের গ্রিজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার ক্রোড়গাছা গ্রামের আফসার আলী মন্ডলের ছেলে আমিরুল ইসলাম (৫২), যিনি লিভারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনের মূল কারিগর, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীসহ চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যান। পলাতক ব্যক্তিরা হলেন, রাজশাহীর বাগমারা থানার বসন্তপুর গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে ড্রেজার প্রকৌশলী আবু মুকিত শুভ (৪৫), মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার পারুলিয়া গ্রামের মোকসেদের ছেলে লিভারম্যান শাহ আলম এবং চঞ্চল, জাহাঙ্গীর, এনামসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২-৩ জন।
অভিযানকালে ‘এম-০১-২৬২২’ নম্বরের একটি কাটিং ড্রেজার, একটি অ্যান্কর বোট, একটি হাউস বোট, বালু পরিবহনের এক হাজার ফুট পাইপ এবং আনুমানিক ৭ হাজার ৫০০ ঘনফুট সদ্য উত্তোলিত বালু ও মাটি জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, নৌ পুলিশের অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।