মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর সীমান্তে শূন্য রেখায় মায়ের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেলেন বাংলাদেশে থাকা মেয়ে ও জামাই। ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের ১০৯ নম্বর প্রধান পিলারের কাছে বিজেপি ও বিএসএফের সমন্বয়ে তাদের এই সুযোগ করে দেওয়া হয়। জানা গেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার মালিয়া পোতা পোস্টের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছাম্মৎ জায়রা খাতুন ৭১ বার্ধক্য জনিত ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান।
মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা তার মেয়ে হাফেজা খাতুন ও জামাই ফিকির আলী শেষবারের মতো মরদেহ দেখার ইচ্ছা পোষণ করেন। বিষয়টি বিজেপিকে জানানো হলে সীমান্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।
পরে মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনার বিওপির বিজেপি টহল কমান্ডার হাবিলদার শরিফুল ইসলাম সহ পাঁচজন বিজেপি সদস্য এবং বিএসএফের ইন্সপেক্টর এস কে রায় সহ পাঁচজন বিএসএফ সদস্যের উপস্থিতিতে ১০৯ নম্বর প্রধান পিলারের কাছে শূন্যরেখায় মরদেহটি দেখানো হয়।
মরদহ দেখার পর আবেগ ঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখতে পেরে বিজেপি ও বিএস‌এফ এর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন হাফেজা খাতুন ও তার স্বামী ফিকির আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সীমান্ত রক্ষী সদস্যরা ও তাদের প্রতি সহানুভূতি জানান। মরদেহ দেখানোর শেষে ভারতের নিজ গ্রামের ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী মৃতের দাফন সম্পন্ন করা হয়।