শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনে পঞ্চগড় জেলায় প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, প্রশাসন ও পুলিশকে সহযোগিতার মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকেরা পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা এবং সংশ্লিষ্ট পৌরসভা এলাকার ১৬টি মন্দিরে বরাদ্দ করা অর্থের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমি ধর্ম দিয়ে মানুষকে বিচার করি না। একজন মানুষ কেমন, তার মনুষ্যত্ব ও মানবতাবোধ কেমন, সেটাই বিবেচনা করি। সবার ওপরে মানবধর্ম। এই মানবধর্মকে ধারণ করেই হিন্দু-মুসলমান দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে বসবাস করছি। ভবিষ্যতেও এই সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি মানুষের মধ্যে বিভেদ ও অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাহলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করতে হবে।
নিজের নির্বাচনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই সুখে-দুঃখে এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। নিজেকে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভাই ও দাদা হিসেবে তাদের পাশে রাখতে চান বলেও উল্লেখ করেন।
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পূজার সময় প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করবেন। এর মাধ্যমে সবাই যেন আনন্দ ও নিরাপত্তার সঙ্গে পূজা উদ্‌যাপন করতে পারেন, সে জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
একই অনুষ্ঠানে আসন্ন ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন নিয়েও কথা বলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাহফিল হওয়া উচিত ধর্মীয় আলোচনা ও ইসলামের শিক্ষা প্রচারের জন্য। মাহফিলে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রচার-প্রচারণা চালানো উচিত নয়। আয়োজকদের এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় আয়োজকদের অনুমতি ছাড়াই পোস্টার ও ব্যানারে কারও নাম অতিথি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। মাহফিলের নামে কাউকে ব্ল্যাকমেল করা বা রাজনৈতিক প্রচারণা চালানোর বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। নিরপেক্ষভাবে ইসলামের শিক্ষা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হাদিস নিয়ে আলোচনা করেন, এমন বক্তাদের মাহফিলে আমন্ত্রণ জানানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
দুর্গাপূজা চলাকালে অন্য আয়োজন সীমিত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পূজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।