মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সচিব কেটি জাকারিয়াকে দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পদ ছাড়তে হয়েছে। একাধিক ভুল, বিতর্কিত বক্তব্য এবং নিজের আইনজীবী পরিচয় নিয়ে সমালোচনার মুখে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তাঁর বিদায়ের বিষয়টি সামনে আসে। এ ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে চাপে থাকা ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে অস্বস্তিতে পড়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে জানা যায়, ফক্স নিউজে জাকারিয়ার পদ ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরুর খবর প্রকাশের পর হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ৪১ বছর বয়সী এই মুখপাত্র দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন বিতর্কের মুখে পড়েন। জাকারিয়ার প্রথম সংবাদ সম্মেলন নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে দায়িত্ব পালনের শুরুতে তিনি ট্রাম্পের কথিত সাফল্যের বিবরণ পড়ে শোনান। ১৫ মিনিটেরও কম সময়ের ওই ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। এরপরই তাঁর উপস্থাপনা ও যোগ্যতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
তবে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় তাঁর আইনজীবী পরিচয় নিয়ে। বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন জাকারিয়া। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক একটি রক্ষণশীল অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রধান আইন উপদেষ্টা হিসেবেও নিজের পরিচয় তুলে ধরেছিলেন তিনি।
জানা যায়, ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করলেও যুক্তরাষ্ট্রে আইন পেশায় কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি জাকারিয়া। বৃহস্পতিবার তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে ট্রাম্প-সমর্থক কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে বিতর্ক সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জাকারিয়া জানান, তিনি কখনো বার পরীক্ষায় পুনরায় অংশ নেননি। অন্যদিকে, ‘রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, স্বামীর সঙ্গে চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ততা ও মানসিক চাপের কারণে পরীক্ষা দেওয়া হয়ে ওঠেনি। আইন বিষয়ে ডিগ্রি থাকায় নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দেওয়ার বিষয়ে অনেকে তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্পও জাকারিয়াকে দায়িত্বটি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জাকারিয়াকে তিনি জানিয়েছিলেন, এই দায়িত্ব পালন করা তাঁর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক অ্যান্থনি স্কারামুচি মাত্র ১১ দিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জাকারিয়ার মেয়াদ ছিল তার চেয়েও কম। এ প্রসঙ্গে স্কারামুচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, রেকর্ড ভাঙার জন্যই তৈরি হয়। তবে অন্যের দুর্দশায় তিনি আনন্দ পান না বলেও উল্লেখ করেন।
এর আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবের দায়িত্বে ছিলেন ক্যারোলিন লিভিট। ট্রাম্পের প্রতি সহানুভূতিশীল সংবাদমাধ্যমগুলোকে বেশি সুযোগ দেওয়া এবং সমালোচনামূলক সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে তাঁর দায়িত্ব পালনও আলোচনায় ছিল। এদিকে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি ও দুর্নীতি নিয়ে জনমনে অসন্তোষের মধ্যে বিভিন্ন জনমত জরিপে তাঁর দলের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এমন সময়ে প্রেস সচিবের পদত্যাগ প্রশাসনের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে।
সূত্র: এএফপি