ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১৮ অক্টোবর সাভার সেনানিবাস থেকে ঢাকায় ফেরার পথে আমিনবাজার এলাকায় একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ফেলার কারণে সৃষ্ট পরিবেশদূষণ রোধ এবং এলাকার সৌন্দর্য বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই মাস আগেও এলাকাটির অবস্থা কেমন ছিল, তা স্থানীয় বাসিন্দারা জানেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে সেখানে পরিবর্তন এসেছে। প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসবাসকারীদের জন্য জায়গাটি এখন দেখতে সুন্দর হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশের উন্নতির ফলে স্বস্তিতে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখায় ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষ সরকারের উদ্যোগে সহযোগিতা করলে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব।
প্রায় দুই দশক ধরে আমিনবাজারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা হচ্ছিল। এতে সেখানে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু বর্জ্যের স্তূপ তৈরি হয়। বর্জ্যের দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের।
গত জুলাইয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্ষাকালীন মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার পথে বর্জ্যের স্তূপটি দেখতে পান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মির শাহে আলমকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের তত্ত্বাবধানে সাভার উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার সহযোগিতায় প্রায় তিন মাস ধরে বর্জ্য অপসারণের কাজ করা হয়। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষে জমি প্রস্তুত করে মাটি সুরক্ষায় প্যালিসেডিং স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি নির্মাণ করা হয় ২০টি সারফেস ড্রেন ও একটি সার্ভিস শেড। মাটির ক্ষয় রোধে নেপিয়ার ও বারমুডাসহ বিভিন্ন ধরনের ঘাসও লাগানো হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১০ থেকে ২৫ মিটার প্রশস্ত এলাকাজুড়ে বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এতে রয়েছে ৬ হাজার ৫৮৫টি গাছ ও শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০টি নিমগাছ, ৩ হাজার ৮১৫টি সুপারি গাছ, ৬০টি তালগাছ, ৬৫০টি মাধবীলতা, ৪৫টি সিজিজিয়াম ও ৭০০টি রঙ্গনগাছ রয়েছে।
এ ছাড়া বাগানে দুই কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল ও এক কিলোওয়াটের বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন স্থাপন করা হয়েছে। দুটি উৎস থেকে মোট তিন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা রয়েছে। রাতে বাগান আলোকিত রাখতে স্থাপন করা হয়েছে ১২০টি বৈদ্যুতিক বাতি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মির শাহে আলম এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন।