মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় ইছামতী নদীর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত ২৫ গ্রামের মানুষ। আমডালা বাজারসংলগ্ন নদীর ওপর তৈরি বাঁশের সাঁকুই হাজারো মানুষের যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরযোগ্য অবলম্বন। ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ সাঁকু দিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উলাইল ও আরুয়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ইছামতী নদী দুই ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীর দুই পাড়ে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এ ছাড়া পাটুরিয়া ফেরিঘাট, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, উপজেলা সদর, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, থানা ও ভূমি অফিসে যাতায়াতের জন্যও এ পথ ব্যবহার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আমডালা বাজারসংলগ্ন বাঁশের সাঁকুটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করেন। তবে বর্ষা মৌসুমে সাঁকুটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। পা পিছলে নদীতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অনেকে। বিশেষ করে শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের চলাচলে ঝুঁকি বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় অনেক শিক্ষার্থীকে। সাঁকু পার হতে গিয়ে কখনো কখনো তাদের বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে দেরি হয়। পরীক্ষার সময় এ দুর্ভোগ আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাঁতার জানে না। ফলে সন্তানদের নিরাপদে নদী পারাপার নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন অভিভাবকেরা।
নদী পারাপারের দুর্ভোগ শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও সমস্যায় পড়েন কৃষকেরা। নদীর অপর পাড়ের কৃষকদের উৎপাদিত সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য আমডালা বাজারে নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে তাঁদের বাঁশের সাঁকু কিংবা নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নৌকায় নদী পারাপারও সব সময় নিরাপদ নয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে নৌকায় চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। নদীতে নৌকা ডুবে প্রাণহানির ঝুঁকিও রয়েছে।
রূপসা গ্রামের বাসিন্দা সুশান্ত কুমার সাহা বলেন, নৌকায় যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়েন। নৌকা ডুবে গেলে শিশু ও বয়স্কদের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে মরদেহ নদীর ওপারে কবরস্থানে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে নৌকাই একমাত্র ভরসা। ফলে স্বাভাবিক যাতায়াতের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনেও দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় তাঁদের।
এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে ইছামতী নদীর ওপর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। সেতু নির্মিত হলে দুই ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহনেও সুবিধা বাড়বে।