মা ইলিশ রক্ষায় দেশজুড়ে ২২ দিনের কঠোর সরকারি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকলেও মানিকগঞ্জের শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার যমুনা নদী তীরবর্তী এলাকায় তা পুরোপুরি কার্যকর করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যমুনার বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে চলছে ডিমওয়ালা মা ইলিশ শিকার এবং চরাঞ্চলে গড়ে উঠেছে কেনাবেচার রমরমমা হাট। এসব এলাকায় মাঠপর্যায়ে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি না থাকায় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও জেলেরা।
সরেজমিনে জানা গেছে, প্রতিদিন শত শত কেজি মা ইলিশ প্রকাশ্যে ও গোপনে বিক্রি হচ্ছে নদীর তীরবর্তী অস্থায়ী ভ্রাম্যমাণ বাজারগুলোতে। সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র ও মৌসুমী চোরাশিকারিরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিন-রাত যমুনায় জাল ফেলে ধরছে ডিমওয়ালা মা ইলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদী-সংলগ্ন চরাঞ্চল ও আলোকদিয়ার চরে প্রতি কেজি ইলিশ ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে, যেখানে মাছ কিনতে নিয়মিত ভিড় জমাচ্ছেন একশ্রেণির অতিলোভী ক্রেতা।
অবশ্য জেলা মৎস্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যমুনা নদীর এই অংশে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি করা হচ্ছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান জানান, মা ইলিশ রক্ষায় তাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে পদ্মা-যমুনার এই নৌপথে শতাধিক অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে বেশ কিছু মামলা দায়ের, জরিমানা আদায় এবং নিষিদ্ধ জাল ধ্বংস করা হয়েছে। এমনকি শিবালয়ের আরিচা ঘাটের কয়েকটি বরফ কলের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু সোর্সের (তথ্যদাতা) কারণে মৎস্য শিকারিরা অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যায় এবং নিরাপদ দূরত্বে সরে পড়ে। এছাড়া নৌ-পুলিশের তৎপরতা নিয়েও নদীপাড়ের মানুষের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক মৎস্যজীবী বলেন, "সরকার নিষেধাজ্ঞা দিলেও নদীতে যদি পুলিশ বা মৎস্য অফিসের সার্বক্ষণিক ও কঠোর টহল না থাকে, তবে এই অবৈধ নিধনযজ্ঞ থামানো যাবে না। মৌসুমী শিকারিদের এই বেপরোয়া আচরণের কারণে সাধারণ ও প্রকৃত দরিদ্র জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।"
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় সম্পদ ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। তাই যমুনা নদীর প্রায় ৬০ কিলোমিটারের এই বিশাল এলাকাজুড়ে চোরাশিকারিদের নিয়ন্ত্রণে অনতিবিলম্বে আরও কঠোর ও সমন্বিত নজরদারি বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।