মানিকগঞ্জ শহরে ভেঙে ফেলা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কার্যালয়ের জায়গা দখলমুক্ত করে পুনরুদ্ধারের ঘোষণা দিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিদুল ইসলাম। সোমবার (১৯ অক্টোবর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর মানিকগঞ্জ শহরের শহীদ রফিক সড়কে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি ভেঙে ফেলা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই জায়গায় দোকান নির্মাণ করে একটি মোবাইল ফোন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়।
জানা গেছে, প্রায় ৫০ বছর আগে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে জমিটির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কার্যালয়টি ভেঙে ফেলার মধ্য দিয়ে তাঁরা নিজেদের জমি ফিরে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন জমির মালিকপক্ষ।
এরই মধ্যে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সাবেক আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের জায়গায় গড়ে ওঠা ‘HONOR’ মোবাইল ফোনের শোরুমে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সর্বশেষ সোমবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিদুল ইসলাম লেখেন, “শীঘ্রই মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পার্টিঅফিস দখল মুক্ত করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হবে।” তাঁর এ পোস্টের পর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী মন্তব্যের মাধ্যমে সমর্থন জানান।
জমিটির মালিকানা দাবি করে শাহ্ আব্দুর রাজ্জাক টিপু বলেন, “জায়গাটি আমার দাদা কলিমউদ্দিন আহমেদের। ১৯৭৬ সালে আওয়ামী লীগের এক নেতা আমাদের কাছ থেকে মাসিক ৬০ টাকা ভাড়ায় জায়গাটি নিয়েছিলেন। প্রথম দুই-চার মাস ভাড়া দেওয়ার পর আর ভাড়া দেননি।”
তিনি আরও বলেন, কয়েক বছর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর এ বিষয়ে একটি আবেদন করেছিলেন। বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মহিউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামও জানতেন। পরে অন্য জায়গায় কার্যালয় স্থাপনের জন্য জায়গা খুঁজতে বলা হয়েছিল। তবে সরকার পতনের পর কার্যালয়টি ভেঙে ফেলা হলে তাঁরা নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পান বলে দাবি করেন তিনি।
ছাত্রলীগ নেতার জমি পুনরুদ্ধারের ঘোষণার বিষয়ে শাহ্ আব্দুর রাজ্জাক টিপু বলেন, “ফেসবুকে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে জমি দখলের হুমকির বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, “ফেসবুকে কে কী লিখল, সেটি গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নয়। তবে কেউ অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”