নিজস্ব প্রতিবেদক, বেলাবো, নরসিংদী:
নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় দীর্ঘদিনের কথিত পরকীয়া সম্পর্ক ও শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিয়ের দাবিতে হাজী বশির আহমেদ সরকারের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন সুমা আক্তার নামে এক নারী। শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যায় উপজেলার আমলাবো ইউনিয়নের কান্দুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বেলাবো থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজী বশির আহমেদ সরকার কান্দুয়া গ্রামের আসমত আলী সরকারের ছেলে এবং তিনি বিবাহিত। অপরদিকে সুমা আক্তার আমলাবো ইউনিয়নের বটেশ্বর গ্রামের মুজিবুর রহমানের মেয়ে। তিনিও বিবাহিত বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, সুমার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে।
সুমা আক্তারের দাবি, হাজী বশির আহমেদ সরকারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের পাশাপাশি শারীরিক সম্পর্কও হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। ওই সম্পর্কের পরিণতি হিসেবে তিনি বিয়ের দাবি নিয়ে বশির আহমেদের বাড়িতে অবস্থান নেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বশির আহমেদের বাড়ির সামনে স্থানীয় লোকজন জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বেলাবো থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা স্থানীয়দের উত্তেজনাকর ও আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখতে পেয়ে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বেলাবো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানা গেছে। ফলে ঘটনাটির আইনগত তদন্ত এখনো শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে হাজী বশির আহমেদ ও সুমা আক্তারের কথিত সম্পর্ক নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আরও কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও ঢাকার ভাষানটেকের মাটিকাটা এলাকায় বশির আহমেদ ও সুমাকে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় লোকজন আটক করেছিলেন। পরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল বলেও স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করছে।
স্থানীয় পর্যায়ে বশির আহমেদকে ঘিরে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে বশির আহমেদের নিজ বাসায় ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল এবং এ ঘটনায় নরসিংদীর আদালতে মামলা হয়েছিল।
এ ছাড়া বশির আহমেদের সঙ্গে তার কাজের এক নারীর কথিত অনৈতিক সম্পর্ক এবং পরবর্তীতে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে রয়েছে।
বর্তমান ঘটনার পর সুমার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, ঘটনাটি যেন থানায় বা আদালতে না গড়ায় সে জন্য দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
এদিকে হাজী বশির আহমেদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
বেলাবো থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে বেলাবোর কান্দুয়া গ্রামের এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিয়ের দাবিতে একজন নারীর অবস্থান, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের দাবি, শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ, হাজী বশির আহমেদকে ঘিরে অতীতের বিভিন্ন অভিযোগ এবং অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার চেষ্টার অভিযোগ—সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি এখন স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।