"অধিকারে সচেতন নয়, দায়িত্বে সচেতন"— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সীমান্ত এলাকায় অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে ২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গাপূজা। বিজিবির সার্বক্ষণিক প্রহর ও সীমান্তে দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই প্রতিটি পূজা মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন হয়েছে।
১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় এবার মোট ৬৭টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা উদযাপনের পুরো সময়জুড়ে বিজিবি সদস্যরা নিরলসভাবে ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। সীমান্ত ঘেঁষা মণ্ডপগুলোতে যাতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে, সেজন্য বিজিবির বিশেষ টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল।
এই সফল ও সুন্দর আয়োজনের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ আরিফুল ইসলাম মাসুম-এর দিকনির্দেশনা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিজিবি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি, নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যবৃন্দও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিগত বছরগুলোতে পূজা মণ্ডপের আশেপাশে মাদকের প্রভাব বা বিশৃঙ্খলা দেখা গেলেও, এবার চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর নজরদারির কারণে কোনো নেশাগ্রস্ত বা বিশৃঙ্খলাকারীকে মণ্ডপ এলাকায় ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তবৃন্দও অত্যন্ত শৃঙ্খলা ও স্রষ্টার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তি বজায় রেখে তাঁদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পালন করেছেন। সার্বিকভাবে, সীমান্ত এলাকার মানুষের সহযোগিতা এবং বিজিবিসহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় ২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গাপূজা এক অনন্য ও সফলতার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো।