বুধবার বান্দরবানের লামা উপজেলায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন বিহারে বৌদ্ধ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে বা প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করা হচ্ছে। মারমা ভাষায় ওয়াগ্যোয়াই অর্থ ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ আর পোয়ে অর্থ ‘উৎসব’।
২৬ অক্টোবর (বুধবার) সকাল থেকেই বিভিন্ন পাড়ার ধর্মপ্রাণ পুণ্যার্থীরা সাবেক বিলছড়ি বৌদ্ধ বিহারে প্রথমে ভিক্ষুমন্ডলীকে ছইং(আহার্য) প্রদান করেন। ফুলপূজা, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল প্রার্থনা, সংঘদান ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পিন্ডদান করেন ভক্তরা। দুপুরের পর নদীতে কল্পজাহাজ(পোগ্রু) ভাসানো, সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও রাতে আকাশপ্রদীপ বা ফানুস ওড়ানোর হবে।
সাবেক বিলছড়ি বৌদ্ধ বিহারের পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ছাগলখাইয়া মৌজার মৌজা হেডম্যান মংক্যসিং মার্মা জানান, ১৮২০ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে এ বিহার স্থাপিত হয়। ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পুরনো এ বৌদ্ধ বিহারটির গুরুত্ব অনেক বেশি। এ বছর প্রায় ৩শত জনের উপাসক, উপাসিকা অষ্টশীল পালনের জন্য বৌদ্ধ বিহারে অবস্থান করছেন।

শিলেরতুয়া মার্মা পাড়া কারবারী মংপ্রু মার্মা জানান, শিলেরতুয়া মার্মা পাড়া বৌদ্ধ বিহারে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমার আনুষ্ঠানিকতার একটি পর্ব হচ্ছে পঞ্চশীল প্রার্থণা। এছাড়াও দুপুরের পর নদীতে কল্পজাহাজ(পোগ্রু) ভাসানো হয়েছে, সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও রাতে আকাশপ্রদীপ বা ফানুস ওড়ানো হবে। পঞ্চশীল প্রার্থণার মূল বিষয়গুলো হলো- প্রাণী হত্যা না করা, চুরি করা থেকে বিরত থাকা, অবৈধ কামাচার থেকে বিরত বা নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, মিথ্যা না বলা এবং সকলপ্রকার মাদক সেবন থেকে বিরত থাকা।
পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক উঃ নন্দমালা থের জানান, আজকের দিনটি ‘আশ্বিনী পূর্ণিমা’ নামেও পরিচিত। বৌদ্ধধর্ম মতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা আষাঢ়ি পূর্ণিমা হতে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত এই তিন মাস বর্ষাব্রত পালন করেন। আর এই বর্ষাব্রত পালন শেষে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথিতেই এই প্রবারণা পূর্ণিমা পালন করা হয়।
লামাা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের ত্রাণ শাখার তথ্য মতে জানান যায়, প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপনের লক্ষ্যে লামা উপজেলায় সর্বমোট ৯১টি বৌদ্ধ এবং ক্রামা মন্দিরে সরকারি ভাবে প্রাপ্ত বরাদ্দ অনুসারে ৬শত কেজি হারে মোট ৫৪.৬০০ মেঃটন খাদ্য শষ্য মন্দির কমিটির কাছে বিতরণ করা হয়েছে।