সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও ইজারার শর্ত তোয়াক্কা না করেই মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া অংশে যমুনা নদী থেকে অবাধে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। ইজারাকৃত বালুমহালের সীমানা ছাড়িয়ে নদীর তীরবর্তী জনপদ ও জাতীয় বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিশন টাওয়ার ঘেঁষে দিন-রাত ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে তীব্র ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ এই সঞ্চালন লাইন এবং নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা। ইতোমধ্যে যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে স্থানীয় বেশ কয়েকটি পাড়া।
গ্রামবাসীদের ওপর হামলা ও মামলার ভয়:
ভিটেমাটি ও শেষ সম্বল হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে যমুনা পাড়ের মানুষের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু কাটায় বাধা দিতে গেলে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও মারধর করা হচ্ছে। উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ভরা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে এভাবে যান্ত্রিক ড্রেজার দিয়ে বালু তোলায় নদীর মৎস্য সম্পদে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রভাব ও আধিপত্যের খেলা:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই অবৈধ বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে বর্তমান সংসদ সদস্যের (এমপি) অনুসারীদের একটি অংশের হাতে। নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক সূত্র ও স্থানীয় ইজারাদার সংশ্লিষ্টদের দাবি, কাগজে-কলমে ইজারার নাম থাকলেও বাস্তবে পুরো বালুমহালটি নিয়ন্ত্রণ করছেন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা।
রাজনৈতিক মহলে এমন আলোচনাও চলছে যে, দীর্ঘ ১৭ বছর এক পক্ষ সুবিধা নেওয়ার পর এখন অন্য পক্ষ একই কায়দায় নদীর বালু লুটে মেতে উঠেছে। এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের বালু উত্তোলনে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি আংশিক স্বীকার করা হয়েছে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও স্থায়ী সমাধানের আকুতি:
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইজারার সীমানা লঙ্ঘন করে বালু তোলা এবং প্রজনন মৌসুমে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশাসনের এই সাময়িক অভিযানে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না নদীপাড়ের মানুষ। জাতীয় গ্রিডের বৈদ্যুতিক টাওয়ার রক্ষা এবং নিজেদের ঘরবাড়ি টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের কাছ থেকে একটি স্থায়ী ও কঠোর পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যমুনা পাড়ের বাসিন্দারা।