নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা করা এক গৃহবধূ বাবার বাড়ি থেকে ফিরে স্বামীর সঙ্গে সংসার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ মা ফাতেমা বেগম ও সৎ বাবা মনিরুজ্জামানের প্ররোচনা ও চাপে পড়ে তিনি ওই মামলা করেছিলেন। তবে তার মা ও সৎ বাবা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে শাহনাজ আক্তার নামের ওই গৃহবধূ লোহাগড়া উপজেলার মদিনাপাড়ায় স্বামীর ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন।
শাহনাজের দাবি, ওই মামলায় তার শাশুড়ি কারাভোগের পর জামিনে রয়েছেন এবং শ্বশুর এখনো কারাগারে আছেন। তার মা ও সৎ বাবা তাকে মারধর করেছেন। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। গর্ভের সন্তানকে ক্ষতি করার আশঙ্কা থেকে বাবার বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছেন।
আমি আমার সন্তানকে বাঁচাতে চাই। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে থাকতে চাই। আমাকে দিয়ে জোর করে মামলা করানো হয়েছে। আমি নিজের ইচ্ছায় মামলা করিনি। এখন স্বামী সৌরভের সঙ্গে সংসার করতে চাই। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ আমাকে স্বামীর সঙ্গে থাকতে দেওয়া হোক। চলতি মাসের ৫ তারিখে তিনি বাবার বাড়িতে গিয়েছিলেন। ওই ঘটনার পেছনে চার-পাঁচজনের একটি চক্র রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে চান বলে জানান এই গৃহবধূ।
শাহনাজের স্বামীর বাড়িতে তার মা ফাতেমা বেগম ও সৎ বাবা মনিরুজ্জামান উপস্থিত হলে তার মুঠোফোন নিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শাহনাজের হাত কেটে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে গেলে মনিরুজ্জামান ও ফাতেমা বেগম ফোনটি নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে ফাতেমা বেগম দাবি ফোনটি শাহনাজের নয় বরং তার নিজের। তবে শাহনাজকে দিয়ে জোরপূর্বক মামলা করানো এবং তার গর্ভের সন্তান নষ্টের চেষ্টা করার অভিযোগও তারা অস্বীকার করেন।
ঘটনাটি লোহাগড়া থানা-পুলিশকে জানানো হলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ যাওয়ার খবর পেয়ে মনিরুজ্জামান ও ফাতেমা বেগম সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।