বরিশালে এক সপ্তাহ ধরে সবজির বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। তবে মাছের বাজারে গিয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং দেশি মাছের সরবরাহে ঘাটতির কারণে চাষের মাছের চাহিদা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দামেও। সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো কোনো মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে বরিশাল নগরের বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজির বাজার ও পোর্ট রোডের মাছের বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচ গত সপ্তাহের মতোই কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পটোল ৩০, ঢেঁড়স ৪০, চিচিঙ্গা ৪০, ধুন্দল ৫০, ঝিঙা ৪০, করলা ৪০, ফুলকপি ৪০, বাঁধাকপি ৫৫ ও গাজর ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে কেজি ৬ থেকে ১০ টাকা, লাউ ৪০ টাকা এবং লেবু প্রতি হালি ৩০ টাকায়।
শীতকালীন শিমের দাম কেজিতে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। এসব সবজি খুচরা বাজারে পাইকারির তুলনায় কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। নগরের বাংলাবাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও মাছের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। স্থানীয় নদ-নদীর মাছও এখন কিনতে কষ্ট হচ্ছে। বাজার নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন।
বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজির ব্যবসায়ী সুমন মিয়া বলেন, বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণে তাঁদের তেমন কিছু করার নেই। তাঁরা যে দামে পণ্য কেনেন, তার সঙ্গে খরচ যোগ করে বিক্রি করেন। আরেক ক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম বেড়েছে। এখন বলা হচ্ছে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। নানা অজুহাতে বাড়তি দামের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, নগরের পোর্ট রোডের পাইকারি মাছের বাজারে চড়া দামে মাছ বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, নদীর মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাষের মাছের চাহিদা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে দামও। আকার ও প্রজাতিভেদে সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বাজারে মাছ কিনতে আসা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগে যে চিংড়ি মাছ কেজি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় কেনা যেত, এখন তা ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অন্য মাছের দামও বেড়েছে। বাধ্য হয়ে পছন্দের মাছের বদলে (১৯০-২৫০) টাকা কেজি দরে তেলাপিয়া মাছ কিনতে হচ্ছে ।
ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ইলিশসহ নদীর মাছ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এখন চাষের পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দামও বাড়ছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। মাছের বাজারে এমন পরিস্থিতির মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি রয়েছে মুরগির দামে। কয়েক দিন ধরে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা, লেয়ার ৩৩০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
সবজির বাজারে স্থিতিশীলতা থাকলেও মাছের বাড়তি দাম ক্রেতাদের ব্যয়ের চাপ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে দেশি মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাষের মাছের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এতে স্বল্প আয়ের মানুষের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।