শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ১৩ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর জামাতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শ্যামল চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে গত ২৪ অক্টোবর রাতে নালিতাবাড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কাপাশিয়া শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। অভিযুক্ত বিপুল চন্দ্র দাস (৩২) এক সন্তানের জনক। তিনি পশ্চিম কাপাশিয়া এলাকার নিমাই চন্দ্র সরকারের মেয়ের জামাতা। প্রায় দুই বছর ধরে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করায় বাদীর পরিবারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। শিশুটি তাঁকে দুলাভাই বলে সম্বোধন করত।
শিশুটির বাবা শ্যামল চন্দ্র সরকার ও মা জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় তাঁদের স্কুলপড়ুয়া মেয়েটি বাড়িতে একা ছিল বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে বিপুল চন্দ্র দাস শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি অন্য কাউকে জানালে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরে দুর্গাপূজার ছুটিতে ক্যানসারে আক্রান্ত বাবা শ্যামল চন্দ্র সরকার ও মা রিতা রাণী সরকার বাড়িতে ফিরে আসেন। এ সময় মেয়ের আচরণে পরিবর্তন ও কান্নাকাটি দেখে তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন। মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা শোনার পর পরিবারটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে ততক্ষণে অভিযুক্ত বিপুল চন্দ্র দাস সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে। পরে শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেন। গত ২৫ অক্টোবর শেরপুর সদর হাসপাতালে ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নালিতাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনল কুমার দত্ত বলেন, এ ঘটনায় থানায় ধর্ষণের মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে এবং ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।