কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ২১ দিনের পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ কোর্সের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রচার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নথিতে বিজ্ঞপ্তির তারিখ ৬ অক্টোবর উল্লেখ থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে এটি প্রচার করা হয় আবেদনের শেষ দিন ২৬ অক্টোবর দুপুরে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে পরে বিজ্ঞপ্তিটি সম্পাদনা করে আবেদনের সময়সীমা ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা, বিজ্ঞপ্তি প্রচারের পদ্ধতি এবং আবেদনকারীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ছাত্র প্রতিনিধিরা।
জানা যায়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ২১ দিনের পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ কোর্সে আবেদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত। কিন্তু ওই বিজ্ঞপ্তি উপজেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয় ২৬ অক্টোবর, অর্থাৎ আবেদনের শেষ দিন।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, আবেদন শুরুর তারিখ থেকে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় থাকলেও সাধারণ যুবকদের কাছে বিজ্ঞপ্তিটি শেষ দিনে কেন প্রচার করা হলো।
এ নিয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্র প্রতিনিধি ফয়সাল আহমেদ রাজিব তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি উপজেলা প্রশাসনের এমন কর্মকাণ্ডকে দায়িত্বহীনতা হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, শেষ দিনে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের কারণে অনেক বেকার যুবক আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
তিনি প্রশাসনের পোস্ট সম্পাদনা বা সরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং দায়িত্ব পালনে অনীহা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদত্যাগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম এমপি এবং কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সমালোচনার মধ্যেই উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পোস্টটি পরে সম্পাদনা করা হয়। পোস্টের সম্পাদনার ইতিহাসে আগের ছবি বা গণমাধ্যম পরিবর্তন করে নতুন তথ্য যুক্ত করার বিষয়টিও দেখা যায়। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শেষ তারিখ ২৬ অক্টোবরের পরিবর্তে ২৮ অক্টোবর উল্লেখ করা হয়।
এতে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা না হলে আবেদনের সময়সীমা কি বাড়ানো হতো? তবে সময়সীমা বাড়ানোর সঙ্গে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদ সাংবাদিকদের বলেন, বিজ্ঞপ্তিটি প্রথমে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে আবেদনকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে প্রচার করতে বলা হয়। ফেসবুকে প্রচারের সময় দেখা যায়, ২৬ অক্টোবরই আবেদনের শেষ তারিখ। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আবেদনের সময় আরও দুই দিন বাড়ানো হয়।
ইউএনও আরও বলেন, এটি মূলত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে জনস্বার্থে বিজ্ঞপ্তিটি প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অন্যদিকে কুলিয়ারচর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞপ্তিটি বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের গ্রুপ এবং পরিষদের নোটিশ বোর্ডে প্রচার করা হয়েছিল। এছাড়া দুয়েকজন জনপ্রতিনিধিও তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেছিলেন।
তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে খোঁজ করেও বিজ্ঞপ্তিটির সহজে দৃশ্যমান প্রচার তারা দেখতে পাননি। ফলে বিজ্ঞপ্তিটি কোথায়, কখন এবং কীভাবে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উদ্দেশ্য শুধু আনুষ্ঠানিকতা পালন নয়, বরং সম্ভাব্য প্রশিক্ষণার্থীদের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে আবেদন করার সুযোগ তৈরি করা। শেষ দিনে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হলে অনেকেই তথ্যটি জানার আগেই আবেদনের সময় শেষ হয়ে যেতে পারে।
এ কারণে কুলিয়ারচরের এই ঘটনার ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি জারি, প্রচার, আবেদন গ্রহণ এবং পরবর্তীতে সময়সীমা বাড়ানোর পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে যাচাই করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারি প্রশিক্ষণ বা সেবামূলক কর্মসূচির বিজ্ঞপ্তি যথাসময়ে এবং সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছানোর মতো কার্যকর মাধ্যমে প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।