পর্যটন এটা একটি দেশের জন্য শিল্প এই শিল্পের পেছনে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা যেমন ব্যয় হচ্ছে তেমনি আয় হচ্ছে এর ডাবল কিন্তু দেশে যে সকল পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে তাতে সরকারি কোন কর্ম তৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে বলে মনে হয় না।
বিশেষ করে পর্যটন এলাকাগুলোতে কাজ করার জন্য পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন কর্পোরেশন নামে একটি অধিদপ্তর রয়েছে যা শুধু নামেই আছে। অথচ পর্যটন এলাকাগুলো ভ্রমণ করলে দেখা যায় পর্যটন কর্পোরেশনের তেমন কোন কাজ চোখে পড়ার মত নয়। পর্যটকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভ্রমণ করে সব সময়। কোন অঘটন ঘটলে তেমন কোন সুরাহা পায় না পর্যটকরা। উল্টো সমস্যা নিয়ে অভিযোগ করলে ভোগান্তি পোহাতে হয় অভিযোগকারীদের।
চট্টগ্রাম কক্সবাজার রাঙামাটি খাগড়াছড়ি বান্দরবান সিলেট সুনামগঞ্জ খুলনা সাতক্ষীরা পটুয়াখালী ভোলা বরিশাল হবিগঞ্জ মৌলভীবাজার কুমিল্লা চাঁদপুর রাজশাহী নওগাঁ নাটোর বগুড়া পঞ্চগড় কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট রংপুর দিনাজপুর সিরাজগঞ্জ টাঙ্গাইল ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলার আকর্ষণীয় যে পর্যটন কেন্দ্রগুলো রয়েছে সেগুলোর প্রায় এলাকা ভ্রমণ করে বার্তা বিচিত্রার এই প্রতিবেদক অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছে ভ্রমণ পিপাসুরা এসব পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে সন্তুষ্ট নয় বিশেষ করে পর্যটন কর্পোরেশনের কাজে। পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজ পর্যটন কর্পোরেশন করে না অথচ প্রতিবছর পর্যটন কর্পোরেশনের উন্নয়ন খাত দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে তা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। সিলেটের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনে দেখা যায় কোম্পানীগঞ্জ হয়ে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকা পর্যটন এলাকা ভ্রমণ করতে যাই প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক। অথচ কোম্পানীগঞ্জ যাওয়ার পথে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে সড়কগুলো। পর্যটন কর্পোরেশন এবং স্থানীয় প্রশাসন এই এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কোন কাজ করে না বলে পর্যটকরা জানান। বিশেষ করে ভোলাগঞ্জ নদীর ঘাট পার হওয়ার সময় এলাকাটি ময়লাযুক্ত থাকে সব সময় অথচ এ এলাকাটি পাথরের সমন্বয়ে একটি সুন্দর রূপ দিতে পারে পর্যটন কর্পোরেশন চাইলে। অপরদিকে জাফলং দিয়ে দেখা যায় টুরিস্ট জোন জিরো পয়েন্টে যাওয়ার সময় ছোট ছোট দোকানের ভিড়ে পর্যটকরা হাঁটাচলা করতে পারে না এখানে পর্যটন কর্পোরেশনের কোন নির্দেশনা নেই যে যেমন ইচ্ছে করে দোকানপাট বসিয়ে পর্যটকদের আসা-যাওয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যটকরা চলাফেরা করে শান্তিতে ভ্রমণ করতে পারেনা এই এলাকায়।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যটন পয়েন্টে পর্যটন কর্পোরেশনের পর্যটন বান্ধব কোন কাজ করতে দেখা যায়নি। সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে গিয়ে দেখা যায় এ পার্কটি বন বিভাগের হলেও পর্যটন সংশ্লিষ্ট তেমন কিছু চোখে পড়েনি। পার্কে উপরে ওঠার সড়কটি ভাঙাচোরা হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে এশার একটি সংস্কারে তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ যদিও চন্দ্রনাথ মন্দিরে যাওয়ার রাস্তাটা এদিকে করা হচ্ছে তাও কাজ চলতেছে খুব ধীরগতিতে। বর্তমানে পর্যটন মৌসুমে প্রায় প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক ও চন্দ্রনাথ মন্দিরে ভ্রমণ করতে আসে কিন্তু সড়ক সংস্কার সঠিকভাবে না করার কারণে অমন পিপাসুরা আগ্রহ হারাচ্ছে এ পার্কে আসা-যাওয়া করার জন্য।
কক্সবাজার পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখা যায় সন্ধ্যা হলে পর্যটকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। মেরিন ড্রাইভ সড়কটি উভয় ঝুঁকিতে পড়ে গেছে পর্যটকদের জন্য। সন্ধা গনিয়ে আসলেই এসবের চিন্তায় কারীদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়। প্রায় প্রতিদিন কোন না কোন পর্যটক চিন্তায়কারীদের কপালে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে। অথচ টুরিস্ট পুলিশ নামের একটি বিভাগ রয়েছে পর্যটন কেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে। পার্বত্য অঞ্চল ভ্রমনীয় একই দুর্দশা পোহাতে হচ্ছে ভ্রমণকারীদের। দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নারীবান্ধব কোন পর্যটন এলাকা গড়ে না তোলায় অনেকেই আগ্রহ হারাচ্ছে ভ্রমণ করতে অথচ এই পর্যটন এলাকাগুলো থেকে সরকার বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করতেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র রাফিউল হাসান বার্তা বিচিত্রাকে বলেন দেশে পর্যটন বান্ধব এলাকা নেই এখানে ছিনতাই বেড়ে গেছে নারীদের হাঁটাচলা করা দায় হয়ে পড়েছে পর্যটন এলাকাগুলোতে অথচ সরকার একটু সঠিকভাবে নজর দিলেই দেশের পর্যটন শিল্প উন্নত দেশকে ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে হয়। পর্যটন কর্পোরেশন শুধু ঢাকাতে বসে বসে সেমিনার সিম্পোজিয়াম করা নিয়ে ব্যস্ত তারা বছরে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করে নিজেরা আত্মসাৎ করে নিজেদের উন্নয়ন করে দেশের পর্যটন খাতকে ক্ষতি করতেছে। এ বিষয়ে সরকারের আরো সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে পর্যটকরা মনে করেন।