মঈনুদ্দীন শাহীন কক্সবাজার থেকে ;
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ীর তুমব্রু সীমান্ত এলাকার শুন্যরেখা ক্যাম্পে গত বুধবার রোহিঙ্গাদের দু' গ্রুপের গোলাগুলি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অনেক লোক হতাহত হয়েছে।
এতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অগ্নিসংযোগে শুন্যরেখায় অবস্থিত ক্যাম্পগুলোর প্রায় ৫শতাধিক পুড়ে ছাই হয়ে হয়েছে। ক্যাম্পের পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোতে প্রায় ৪ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা বসবাস করে আসছিলো বলে জানা গেছে। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রায় ২৬০ পরিবার মায়ানমারের অভ্যন্তরে তাবু টাঙিয়ে কোনপ্রকার অবস্থান করছে বলে জানা যায়। অন্যদিকে রাতের অন্ধকারে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে আরও প্রায় ২ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে বলে সুত্র বলছে।
সুত্র আরো জানিয়েছে, তুমব্রু এলাকায় অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তাদের বিভিন্ন আত্মীয় স্বজন, এলাকার সাধারণের মাঝে, তুমব্রু প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান করছে।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদল তুমব্রু সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনার পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখে আসেন। তিনি স্থানীয়দের আশ্রয়ে যেসব রোহিঙ্গা রয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্তভাবে যেসব রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন তাদেরকে তুমব্রু প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সমবেত হবার আহবান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে গত বুধবারে গোলাগুলির ঘটনায় নিহতদের শুন্যরেখায় অবস্থিত কোনারপাড়া কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেবার কথা জানা গেছে।
সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ ও রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বাংলাদেশ সীমান্তে বসবাসকারী স্থানীয়দের মাঝে অতংকের সৃষ্টি করেছে।
এদিকে সীমান্তে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি'র জোয়ানরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানায় বিজিবি।