মোঃ রেজাউল করিম,নাটোর প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশের মধ্যে পরিচিতি একটি গ্রাম ঔষধিগ্রাম। এলোভেরা চাষে সফলতার পর গ্রামবাসীরা একের পর এক বিভিন্ন জাতের ঔষধী গাছ লাগাতে শুরু করলে এখানে ঘটে ভেষজ বিপ্লব, নাম হয়ে যায় ঔষধি গ্রাম এবং ২০০৯ সালে কৃষি পদক লাভ করেন আফাজ উদ্দিন।
নাটোর সদরে ৪ নং লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঠালবাড়িয়া নতুন বাজার গ্রামে মোঃ শহিদুল ইসলাম বাণিজ্যিকভাবে রোজেলা ফল চাষ করছেন। তিনি বিগত ৪ বছর যাবত রোজেলা চাষ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি রোজেলা ফলকে চা হিসেবে খাওয়ার উপযোগী করে তুলেছেন।
রোজেলা ফল এটি একটি পুষ্টি সমৃদ্ধ ফল। এটি এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, হজমে সহায়তা করে, ওজন কমায়। ডিটক্সি ফিকেশন, ডায়াবেটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, এবং হার্টের জন্য এই ফলটি খুবই উপকারী। এটি ত্বক ভালো রাখে। রোজেলা ফল বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের অনেক দেশে এটি চা বা শরবত হিসেবে খাওয়া হয়। ভিটামিন বি১, বি টু, বি সিক্স, ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন ইত্যাদি সরবরাহ করে।
রোজেলা ফল সম্পর্কে জানতে চাইলেব শহিদুল ইসলাম বলেন যে আমি আমার অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রোজেলা ফলকে চা হিসেবে খাওয়ার জন্য আমি প্যাকেটজাত করে আসছি। ইতিমধ্যে আমার এই প্যাকেট জাত ফলগুলো বিভিন্ন কোম্পানি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন ফলগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে তোলা হচ্ছে এবং শুকানো হচ্ছে ইলেকট্রিক যন্ত্রের মাধ্যমে যা ধোলা বালি স্পর্শ করতে পারে না। একটি চা তৈরি করতে তিনটি ফল প্রয়োজন। প্রথমে পানি গরম করে তারপর তিনটি ফল গরম পানিতে ছেড়ে দিলে তিন মিনিটের মধ্যেই সহজেই চায়ের কালার চলে আসে। এ চা খেতে হালকা টক অনুভূতি হয় এটি একটি সুস্বাদু চা।
নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ সুব্রত কুমার সরকার সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রা কে জানান, যে রোজেলা ফলে নানা রকমের পুষ্টিগুণ রয়েছে। এটি বাণিজ্যিকভাবে সারা বাংলাদেশে চালু করতে পারলে বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে কাজ করবে এই ফলটি। ওষুধিগ্রামের বিভিন্ন ঔষধি বাগান গুলো আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করি এবং সুপরামর্শ দিয়ে থাকি।