বিসিআইসির সারের ১৩ বাফার গোডাউন নির্মাণ প্রকল্পের প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ছাপাতে অনিহা প্রকাশ

Date: 2023-01-30
news-banner

এস আই খানঃ

শিল্পমন্ত্রনালয় অধিনস্ত বিসিআইসির ১৩ জেলায় সারের বাফার গোডাউন নির্মাণ প্রকল্পের নানা অনিয়মের উপর প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ছাপানোর জন্য সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রা পত্রিকার সম্পাদকীয় কার্যালয়ে ইমেইল, জিপিও ও কুরিয়ারের মাধ্যমে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু বিসিআইসির ১৩ সারের বাফার প্রকল্পের নানা অনিয়মের যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ পত্রিকা অফিসে সংগৃহীত থাকায় প্রতিবাদ ছাপাতে সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রা পত্রিকা অনীহা প্রকাশ করে। 

বিসিআইসির এ প্রকল্পে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলছে সার সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩ টি নতুন বাফার গোডাউন নির্মাণ কাজ।  এজন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৮২ কোটি টাকা। 
চলমান এই প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে গত ১৭/০১/২০২৩ ইং তারিখে অপরাধ অনুসন্ধানমূলক জাতীয় সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রা পত্রিকায় “নানা অনিয়মে চলছে শিল্পমন্ত্রণালয়ের বিসিআইসির ১৩ জেলার সারের বাফার গোডাউন প্রকল্পের কাজ।” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। 

প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ১৮/০১/২০২৩ইং তারিখে  প্রকল্প পরিচালক এ.কে.এম হাবিবুল্লাহ, সহকারী প্রকৌশলী (পুর) মো. ফরহাদ রায়হান, সহকারী প্রধান হিসাবরক্ষক মো. আবুল কালাম, সাঁটলিপিকার কাম-কম্পিউটার অপারেটর আলমগীর হোসেন এবং অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ আপনাদের পক্ষ থেকে বার্তা বিচিত্রা পত্রিকার সম্পাদকীয় কার্যালয়, ৪০ খাঁজা মঞ্জিল (২য় তলা), কোর্ট হাউজ স্ট্রীট, আগরবাতি গলি কোতয়ালী, ঢাকা-১০০০ এ ওই প্রতিবেদনে উল্লেখিত বক্তব্যের প্রতিবাদলিপি প্রেরণ করা হয়। উক্ত প্রতিবাদলিপিতে তাদের নিজস্ব বক্তব্যের পাশপাশি বার্তা বিচিত্রায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সরেজমিনে তথ্য-উপাত্ত যাচাই বাছাই ছাড়া করা হয়েছে বলে উল্ল্যেখ করা হয়। প্রতিবেদনে উল্ল্যেখিত বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া, ভিত্তিহীন, অনুসন্ধানহীন ও মানহানীকর বলা হয়। সেই সাথে পত্রিকা অফিসকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবাদলিপি না ছাপালে পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকীও দেওয়া হয়। 

যেহেতু বার্তা বিচিত্রার কাছে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করার মত যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ রয়েছে, সেহেতু সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রা পত্রিকা প্রতিবাদলিপির বক্তব্যের সাথে একমত হতে পারছে না বলে পত্রিকা অফিস থেকে প্রকল্প পরিচালককে চিটি দেওয়া হয়। চিটিতে উল্ল্যেখ করা হয় যে, সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রা কোনো ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে নয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন। তাই পত্রিকা অফিস প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ছাপাতে অনীহা প্রকাশ করেছে। 

তবে পত্রিকা অফিস দাবী করছে বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহিত তথ্যের বিভ্রাট ঘটতে পারে। তথ্য বিভ্রাটের কারণে প্রতিবেদন প্রভাবিত হতে পারে। সেক্ষেত্র বিসিআইসির উক্ত প্রকল্পের কর্মরত কর্মকর্তাদের সাথে বিষয়ভিত্তিক সাক্ষাৎকার একান্ত অপরিহার্য। 

এছাড়াও বিসিআইসির উক্ত প্রকল্পের উপর অনিয়মের আরও নতুন তথ্য-প্রমাণ পত্রিকা অফিসে রয়েছে সেগুলো নিয়ে ধারাবাহিক পর্ব আকারে প্রতিবেদন প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।

Leave Your Comments