মঈনুদ্দীন শাহীন কক্সবাজার থেকেঃ
নাইক্ষ্যংছড়ীর বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে শূন্যরেখায় পুড়ে যাওয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিচ্ছে সরকার।
ইতোমধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও এর আশপাশের এলাকায় অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ঘুমধুম ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে আসার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রোববার প্রথম দিনে ৩৬ পরিবারের ১৮৬ জনকে ক্যাম্পে স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
গত (১৮ জানুয়ারি) ভোর থেকে শূন্যরেখা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসা ও আর এস ও র মধ্যে গুলাগুলিসহ ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিকেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয় ক্যাম্পটি। আগুনে স্বর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব রোহিঙ্গারা আশেপাশে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়।
শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, এখানে আশ্রিত যেসব রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাবে, তাদের ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হবে।
অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসুদ্দোজা জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। গঠিত কমিটি ২ হাজার ৯৭০ জন রোহিঙ্গার একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। তাদের প্রথমে উখিয়ার বালুখালী ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়েছে। যারা আগে থেকেই নিবন্ধিত তাদের উখিয়া-টেকনাফের স্ব স্ব ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হবে। বাকিদের নিবন্ধন করে বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় দেওয়া হবে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেও প্রায় ৬৩০ পরিবার ৪৩০০ জন রোহিঙ্গা তুমব্রুর শূন্যরেখায় ক্যাম্প গড়ে তুলেছিলেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসলেও গত ১৮ জানুয়ারি আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ক্যাম্পে আগুন দেওয়া হলে পুড়ে নিঃস্ব ছাই হয়ে যায় ক্যাম্পটি। সে থেকেই ঘুমধুম ইউনিয়নের পার্শ্বে তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাবু দিয়ে বসবাস করে আসছিল এসব ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গারা।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমেন শর্মা বলেন, “তুমব্রুতে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের গণনা শেষে (৫ ফেব্রুয়ারী) আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রশাসন, আরআরআরসি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিনিধিরাসহ জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে
৩৬ পরিবারের ১৮৬ জন সদস্য কে ট্রানজিট ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বিকালে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আইআরসিআরসির সহায়তায় ইউনিয়ন পরিষদ সোমবার বিকালে রোহিঙ্গা সংখ্যা গণনার কাজ সম্পন্ন করেছে। একজন ইউপি সদস্যের সমন্বয়ে দুদিনে মোট আটজন এই জরিপ কাজ পরিচালনা করে। এখানে ৫৩৭টি পরিবারে মোট দুই হাজার ৯৭০ জন রোহিঙ্গাকে পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।