নারী গণমাধ্যমকর্মীর শ্লীলতাহানী; আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

Date: 2023-07-11
news-banner



আব্দুল্লাহ আল মামুন (ঢাকা ব্যুরো প্রধান):  পুলিশের সোর্স কর্তৃক এক নারী সংবাদকর্মীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থানা এলাকায়। পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে শিলা নামের ঐ নারী গণমাধ্যমকর্মীকে পুলিশের চিহ্নিত সোর্স লালন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা শুধুমাত্র তাকে শারীরিক নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি, একইসাথে ওই নারীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, নগদ সাড়ে ৮ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। ঘটনার শিকার গণমাধ্যমকর্মী শিলা গত ২২ জুন যাত্রাবাড়ি থানায় উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 

মামলা সূত্রে জানা যায় যে, বিবাদী ১. মো. লালন (৩২), ২. মো. সাগর (২৮), উভয় পিতা- রইচ উদ্দিন, সাং- মুশাপুর, থানা- রায়পুরা, জেলা- নরসিংদী, এ/পি- সায়দাবাদ এলাকায় ভাসমান, থানা- যাত্রাবাড়ি, ঢাকা। ৩. মো. হাফিজুল ইসলাম (৩০), পিতা- মো. ফজল হক, সাং- ধলাপাড়া পূর্বপাড়া, থানা- ঘাটাইল, জেলা- টাঙ্গাইল, এ/পি- ধলপুর (বাদল সরদার গলি), থানা- যাত্রাবাড়ি, ঢাকা। ৪. রাহিদুল (৩০), ৫. মো. ইয়াকুব (৩৩) ও ৬. মো. করিম (৩৭), সর্ব পিতা- অজ্ঞাত, সাং- অজ্ঞাত। বিবাদীগণ পূর্ব শক্রতার জের ধরে শিলার উপর আক্রমণ চালায়। মামলা করার ২ দিন পূর্বে ২০ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টায় পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে ভিকটিম তার স্বামীসহ সিএনজি যোগে সবুজবাগস্থ নিজ বাসায় ফেরার পথে যাত্রাবাড়ি থানাধীন ৬৭/৩/এ কাজিরগাঁও, বিশ্বরোডস্থ রহমান ভিলার সামনে পৌঁছলে পূর্ব পরিচিত অভিযুক্তরা তাদের সিএনজির গতিরোধ করে সিএনজি থেকে তাকে নামিয়ে এলোপাথাড়ি চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মেরে জখম করে। 

এ সময় ১ নং বিবাদী লালন ভিকটিমের পরনের কাপড় টানা-হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানী করে এবং তার হাতে থাকা ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মূল্যমানের একটি ক্যামেরা ও নগদ সাড়ে ৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ২ নং বিবাদী লালনের ভাই সাগর এবং ৩ নং বিবাদী হাফিজুল ভিকটিমের গলায় ও কানে থাকা ৮০ হাজার টাকা মূল্যমানের একটি স্বর্ণের চেইন ও একটি দুল ছিনিয়ে নেয় এবং ৪ নং বিবাদী রাহিদুল ১৮ হাজার ৫ শত টাকা মূল্যমানের অপ্পো ব্রান্ডের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। বিবাদীগণ এই তান্ডব ঘটিয়ে ভিকটিমকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যাত্রাবাড়ি থানার মামলা নং- ৮৮ তারিখ- ২২/০৬/২০২৩ খ্রিঃ এবং ধারা- ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩৭৯/৩৫৪/৫০৬ পেনাল কোড ১৮৬০। 

ইতোমধ্যে মামলা হওয়ার ১৮ দিন পার হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত এজাহার নামীয় আসামীদের মধ্য হতে ৩ নং আসামী হাফিজুল ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি যাত্রাবাড়ি থানা পুলিশ। হাফিজুল বর্তমানে জামিনে রয়েছে। “মামলার মূল আসামী লালন পুলিশের সোর্স হওয়ায় তাকে আটক করছে না পুলিশ” বাদীর এই বক্তব্য বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মো. আনাছ উদ্দিন বার্তা বিচিত্রাকে জানান, “আসামী যেই হোক, পুলিশ খুঁজে পেলে তাকে আটক করবেই। সেখানে একজন সোর্সতো সামান্য বিষয়।” তবে হাফিজুল ছাড়া আর কোনো আসামী জামিনে রয়েছে মর্মে কোনো তথ্য তার কাছে নেই বলে জানান তিনি।    

বার্তা বিচিত্রার এক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, নারী গণমাধ্যমকর্মী শিলা ও সোর্স লালন গংদের এই শক্রতা বেশ পুরনো। ২০১৮ সালেও শিলার উপর শরীরিক নির্যাতন চালিয়েছিল পুলিশের এই চিহ্নিত সোর্স লালন ও তার বাহিনী। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর তার উপর এই হামলা হয়েছিল। জানা যায়, আগের দিন ৩১ অক্টোবর “দৈনিক গণতদন্ত” পত্রিকায় সংবাদকর্মী শিলা নিজ নামে “পলিথিনে ছয়লাব দেশ” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করলে ঐ সময়ই পুলিশের সোর্স লালন গংদের টার্গেটে পরিণত হয় সে। পরদিন ১ নভেম্বর সায়েদাবাদ এলাকায় নিষিদ্ধ পলিথিনের সন্ধান পেয়ে সেখানে ছুটে যায় শিলা। এ সময় বস্তা ভরা নিষিদ্ধ পলিথিনের ছবি উঠাতে গেলে সোর্স লালন তার বাহিনী নিয়ে শিলার উপর হামলা করে। ঐ সময়ে লালনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ি থানায় শিলার দায়েরকৃত মামলা নং ০৮- ১১/২০১৮ খ্রিঃ। একজন নারী গণমাধ্যমকর্মী শিলার করা ২ টি অভিযোগ ছাড়াও লালনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ি থানায় অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন পূর্বক নগদ টাকা ছিনতাই করাসহ একাধিক মামলা থাকা সত্বেও অজ্ঞাত কারণে সে রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

Leave Your Comments