রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থেকে অপহৃত শিশু সালমানকে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব
Date: 2023-07-20
আব্দুল্লাহ আল মামুন (ঢাকা ব্যুরো প্রধান):
গত ১৫ জুলাই (শনিবার) রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীরচর
থানাধীন মমিনবাগ এলাকা থেকে অপহৃত সালমান (০৪) নামের এক শিশুকে চট্টগ্রাম মহানগরীর
সদরঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব-১০। একইসঙ্গে অপহরণ চক্রের মূলহোতা মো. শাফায়েত
হোসেন ওরফে আবির (১৯) ও তার সহযোগী মো. আল আমিনকে (১৭) গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায়
র্যাব।
র্যাব সূত্র জানায়, কামরাঙ্গীরচর থানাধীন
মমিনবাগ এলাকায় বসবাসকারী মাওলানা ইমদাদুল্লাহর ছেলে শিশু সালমান বাসার সামনে খেলাধুলার
সময় অপহরণের শিকার হয়। পরে ভিকটিমের পরিবার সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুজি করে ভিকটিমকে
না পেয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন। যার জিডি নং- ৮২৯, তারিখ ১৫ জুলাই
২০২৩ খ্রিঃ। পরদিন ১৬ জুলাই অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ভিকটিমের পরিবারকে ফোন করে ভিকটিমকে
অপহরণের বিষয়টি জানায় এবং তার পরিবারের নিকট মুক্তিপণ দাবী করে বিভিন্ন হুমকি দিতে
থাকে। অতঃপর ভিকটিমের পরিবার র্যাব-১০ এর নিকট ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য লিখিত আবেদন
করেন। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে অপহৃত শিশু সালমানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের
গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
এর ধারাবাহিকতায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা, ঘটনাস্থলের
আশেপাশের বিভিন্ন সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে
গত ১৭ জুলাই রাতে র্যাব-৭ ও র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল চট্টগ্রামের সদরঘাট থানাধীন
আইস ফ্যাক্টরি রোড এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অপহরণকারী চক্রের উল্লেখিত ২ আসামীকে
গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এদের মধ্যে শাফায়েত হোসেন কিশোরগঞ্জ জেলার মো. আব্দুল কুদ্দুসের
ছেলে এবং আল আমিন শরিয়তপুর জেলার ঘোসাইঘাট এলাকার হাফেজ মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে বলে
জানা যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিবরণে জানা যায়
যে, গ্রেফতারকৃত শাফায়েত ও আল আমিন ভিকটিমের পাশের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করত।
প্রায় ৩ মাস পূর্ব থেকে ভিকটিমকে তাদের বাসার সামনে খেলাধুলার সময় তাকে অপহরণের পরিকল্পনা
করে তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী আল আমিন ভিকটিমকে বিভিন্ন সময়ে চিপস্, চকলেট, খেলনা ইত্যাদি
কিনে দিয়ে তার সাথে সখ্যতা ও বিশ্বস্ততা অর্জন করে। ভিকটিমের পিতা পবিত্র হজ্জব্রত
পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করাকালীন সময়কে বেছে নেয় তারা। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী
গত ১৫ জুলাই সাড়ে ৪ টার দিকে ভিকটিমের বাসার সামনে খেলাধুলা করা অবস্থায় ভিকটিমকে অপহরণ
করে আল আমিন কামরাঙ্গীরচরের মাদবর বাজার এলাকায় তার পরিচিত অপর এক সহযোগী হেলালের কাছে
নিয়ে যায়। হেলাল ভিকটিমকে চট্টগ্রামে নিয়ে যায় এবং শাফায়েত ও আল আমিনকে চট্টগ্রামে
যেতে বলে। তারা চট্টগ্রামে গিয়ে হেলালের পরিচিত আইয়ুবের বাসায় ভিকটিমকে রাখে।
পরে গ্রেফতারকৃতরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিকটিমের
পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ভিকটিমকে অপহরণের বিষয়টি জানায় এবং ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ
দাবী করে। ভিকটিমের পরিবার মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে তাদেরকে ৫ হাজার দেয় এবং আলাপচারিতার
একপর্যায়ে অপহরণকারীরা ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভিকটিমকে ফেরত দিতে রাজি হয়। মুক্তিপণের
টাকা নিয়ে চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট এলাকায় আসতে হবে বলেও জানায় তারা। তাদের কথা মতো
ভিকটিমের পরিবার তাদেরকে আশ্বস্ত করে যে, তারা মুক্তিপণের টাকা নিয়ে চট্টগ্রামে যাচ্ছে
এবং ভিকটিমের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে ব্যাপারে অনুরোধ করে।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা আরও জানায়, ভিকটিমের
পরিবার মুক্তিপনের টাকা নিয়ে আসতে দেরি হওয়ায় তারা সময় অতিবাহিত এবং তাদের অবস্থান
পরিবর্তন করার জন্য আল আমিন ও শাফায়েত বাচ্চাটিকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেনযোগে ফেনী-চট্টগ্রাম
যাতায়াত করে। পরে শাফায়েত ও আল আমিন ভিকটিমকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে আইয়ুবের নিকট
রেখে মুক্তিপনের টাকা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট এলাকায় গমন করে।
আন্যদিকে অপহরণকারীদের মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের
বিষয়টি র্যাব অত্যন্ত বিচক্ষণতার সহিত নজরদারী করতে থাকে এবং অপহরণকারীদের গ্রেফতারের
লক্ষ্যে র্যাব-৭ ও র্যাব-১০ এর যৌথ আভিযানিক দল বর্ণিত এলাকায় পূর্ব হতে অবস্থান
নেয়। গ্রেফতারকৃতরা তাদের দাবীকৃত টাকা নেয়ার জন্য উক্ত স্থানে উপস্থিত হলে তারা র্যাবের
জালে আটকে যায়। পরে র্যাব তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য চট্টগ্রাম
রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পৌঁছলে আইয়ুব র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ভিকটিমকে রেলওয়ে স্টেশন
ফুটওভার ব্রিজ এলাকায় একা রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়। র্যাব সেখান থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার
করে।