সংকটে নৌপরিবহন: লঞ্চ কেটে ওজন দরে বিক্রি

Date: 2022-10-02
news-banner

বুড়িগঙ্গা নদীর দুই তীরে অন্তত আটটি লঞ্চ কেটে ওজন দরে লোহা হিসেবে বিক্রির কাজ চলছে। যাত্রীবাহী এসব লঞ্চ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়মিত চলাচল করত। 

পদ্মা সেতু হওয়ার পর যাত্রী উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়া এবং জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় লোকসান থেকে বাঁচতে লঞ্চ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছেন মালিকরা। বৈশ্বিক বাস্তবতায় এই সময়ে লোহার দামও তুলনামূলক বেশি।রাজধানীর পোস্তগোলা শ্মশানঘাট এলাকায় গিয়ে লঞ্চ কাটার এই দৃশ্য সহজে চোখে পড়ে। কেটে ফেলা লঞ্চগুলো সৌদিয়া, রাজধানী, প্রিন্স আওলাদ, শাকিলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের। 


আকারে এগুলো ছোট ও মাঝারি বলে মালিকরা জানিয়েছেন।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) তথ্য বলছে, আগে ঢাকার সদরঘাট থেকে গড়ে ৯৫টি লঞ্চ দক্ষিণের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যেত। সেই সংখ্যা এখন কমে গড়ে ৬৫টিতে নেমে এসেছে। আর যাত্রী কমেছে ৩৫ শতাংশ।যদিও লঞ্চ মালিক সমিতির সূত্র বলছে, সদরঘাট থেকে আগে নিয়মিত ৪১ রুটে লঞ্চ চলাচল করত। এখন ৩৮টি রুটে চলছে। রুটের সংখ্যা তেমন না কমলেও কমেছে যাত্রী ও লঞ্চের সংখ্যা। আগে প্রতিদিন ১৩০টি পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল করত। এখন কোনো কোনো দিন ৩০টিও চলাচল করে না। আর যাত্রী কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ।সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়কপথে যাতায়াতের সুবিধা বাড়ায় নৌপথে যাত্রী কমছে। বিশেষ করে ছোট নৌপথে ছোট-মাঝারি ধরনের লঞ্চে যাত্রীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমেছে। ভাড়া বাড়ালে যাত্রী আরো কমে যাচ্ছে। কিন্তু লোকসানও সহনীয় রাখা যাচ্ছে না।


সরেজমিনে সদরঘাটে গিয়েও চিরচেনা সেই হাঁকডাক, কোলাহল, যাত্রী নিয়ে টানাটানি দৃশ্য দেখা গেল না। মাস চারেক আগেও মধ্য দুপুর থেকেই স্বাভাবিক নিয়মে যাত্রীর আনাগোনা শুরু হয়ে যেত সদরঘাটে। সেই চিত্র একেবারে বদলে গেছে।সদরঘাট থেকে মাইল তিনেক দক্ষিণে গেলে পোস্তগোলা শ্মশানঘাট। সেখানে নতুন ধরনের ব্যস্ততা চোখে পড়বে। রাত-দিন কাটা হচ্ছে লঞ্চ। কয়েকজন শ্রমিক কেটে ছোট ছোট টুকরা করছেন কামাল-১ নামের লঞ্চটি। লঞ্চটি ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচল করত। এর আগের নাম কীর্তনখোলা-১।

Leave Your Comments