পুনম শাহরীয়ার ঋতু, গাজীপুর:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের বড় গবিন্দপুর এলাকায় মেরে
ফেলার ভয় দেখিয়ে ৭ম শ্রেণির এক নারী শিক্ষাথর্ীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ
উঠেছে বাবুল সিকদার নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এঘটনায় ওই নারী শিক্ষাথর্ী
ও তার মা শনিবার দুপুরে থানায় একটি অভিযোগ দিতে এসে পুলিশের অশালীন
প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে দুপুরের পর থেকে
পুলিশ যাওয়ার কথা বললেও রাত সাড়ে আটটার পরেও পুলিশ ভুক্তভোগির অভিযোগ
গ্রহণ ও তদন্তে যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছেন, অভিযোগ নেওয়ার আগেই
অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হবে।
নারী শিক্ষাথর্ীও পরিবার, এলাকাবাসী ও পুলিশ জানান, ওই নারী শিক্ষার্থী নিজ
বাড়ী থেকে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল সাতটার দিকে প্রাইভেট পড়তে
স্কুলের দিকে যেতে থাকেভ এসময় ওই শিক্ষকের বাড়ির সামনে পৌছালে ওই শিক্ষক
বাবুল সিকদার শিক্ষার্থীকে বাড়ীতে ডেকে নিয়ে যায়। বাড়ি ফাকা থাকায় এক
পর্যায়ে কৌশলে তাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে নানা ভাবে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের করার
চেষ্টা চালায়। এক সময় ওই শিক্ষার্থীকে গলা চেপে ধরে ঘটনাটি কাউকে না
জানানোর জন্য হত্যার ভয়ভীতি দেখায় ও খুন করবে বলে হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর ভয়ে
ওই শিক্ষার্থীর শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওই নারী শিক্ষার্থী ঘটনাটি তার
পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে শিক্ষার্থীর পরিবার বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য
ব্যক্তিদের জানালে এলাকায় কিছু মাতাব্বর বিষয়টি স্কুল কতর্ৃপক্ষকে জানান।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে শনিবার সকালে স্কুল
অফিসে বসে নারী শিক্ষাথর্ী জবানবিন্ধ নেন। পরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল
করিম ও স্কুল কমিটির সভাপতি ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকতার্র সাথে কথা বলে
আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নারী শিক্ষাথর্ীর পরিবারদের অনুরোধ জানান।
নারী শিক্ষাথর্ীর মা মোবাইল ফোনে জানান, শনিবার দুপুরের পর থেকে থানায় বসে
রয়েছি। পুলিশ নানাভাবে অশালীন কথাবার্তা বলেছেন। অভিযোগও নিচ্ছেন না
আবার আমাদের বাড়ীতে যেতেও দিচ্ছেন না।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম জানান, বিষয়টি শনিবার সকালে জানার পর
স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির কিছু সদস্য নিয়ে বসেছিলাম। নারী শিক্ষাথর্ীর
কথাবাতার্য় ঘটনা সত্য মনে হওয়ায় সভাপতি সাইফুজ্জামান সেতুর সাথে কথা
হয়। তিনি নারী শিক্ষাথর্ীকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের থানায় পাঠান।
চাপাইর ইউপি চেয়ারম্যান ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাইফুজ্জামান
সেতু জানান, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়াতে নারী শিক্ষাথর্ীর পরিবারকে থানায়
গিয়ে মামলা করার অনুরোধ করেছি।
কালিয়াকৈর থানার ওসি(তদন্ত) আবুল বাসার জানান, শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষনের
চেষ্টার বিষয়টি ওই শিক্ষার্থী ও তার মায়ের কাছে থেকে জেনেছি । প্রাথমিক
অবস্থায় এটাকে ধর্ষণ চেষ্টা বলা যায়। তবে তদন্ত করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে
প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।