সৈয়দপুরে স্টেশনে দুদকের অভিযান, টিকিটসহ তিন কালোবাজারি আটক

Date: 2022-10-10
news-banner


বুলবুল আহমেদ, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি। 
নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কালোবাজারি চক্রের সদস্য স্টেশনের এক কুলি ও কম্পিউটার দোকানের দুই মালিককে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি টিকিট জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত রেল স্টেশন ও বিপনীনিতান কেন্দ্র সৈয়দপুর প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় রংপুরের সহকারী পরিচালক সাফদারুল ইসলাম। আটককৃতরা হলেন শহরের হাতিখানা এলাকার মৃত শফিকের ছেলে শামিম হোসেন (৪৫), মুন্সিপাড়ার আইনুল হকের ছেলে ফাতেমা কম্পিউটারের মালিক আরিফ হোসেন (৩০) ও একই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেটের দ্বিতীয় তলার গ্লোবাল কম্পিউটারের পরিচালক সারোয়ার সারফারাজ (৩৫)। শামীম হোসেন সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের কুলি সর্দার। তার কাছে কালোবাজারে বিক্রির একটি টিকিট পাওয়া গেছে।

দুদকের সহকারি পরিচালক সাফদারুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত। আটককৃতদেরসহ সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেসনের দায়িত্বরত স্টেসন মাস্টার টুটুল চন্দ্র সরকার, বুকিং সহকারী মাহবুবুর রহমান, ইশিতা পারভিনকে সরাসরি ও স্টেশন মাস্টার শওকত আলীকে মুঠোফোনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা নষ্ট, এনআইডি নেয়ার যৌক্তিকতা এবং কালোবাজারিদের কাছে টিকিট বিক্রির ব্যাপারে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তারা।

তিনি আরও বলেন, আটককৃতদের স্টেশন মাস্টারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্টেশন মাস্টার তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিবেন। এছাড়া তাদের সহযোগীদের ধরতে দুদকের অভিযান চলমান থাকবে। এ স্টেশনে যারা তিন বছরের বেশি কর্মরত তাদের তালিকা তৈরির জন্য বলা হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় প্রতিদিনই কালোবাজারে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের এজন্য ভোগান্তিতে পড়তে হয় প্রতিদিন। নির্ধারিত মূল্যে টিকিট পাওয়া যায় না। কাউন্টার থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, টিকিট নেই। অথচ পরে ওই টিকিট পাওয়া যায় কালোবাজারিদের কাছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দামে টিকিট কিনতে হয়।

ট্রেনযাত্রী আনিছুর রহমান বলেন, কিছুদিন আগেও আমাকে শোভন চেয়ারের ৪০০ টাকার টিকিট কিনতে হয়েছে ৭৫০ টাকায়। এসি চেয়ারের টিকিট তো পাওয়াই যায় না। দ্বিগুণ অথবা তিনগুণ দামে কিনতে হয়। কালোবাজারিদের হাতে সাধারণ ক্রেতারা জিম্মি।

বুকিং সহকারী মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা যাবতীয় কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে চালাচ্ছি। যারা কালোবাজারি করছে তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। যাত্রীদের পাশাপাশি সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

সহকারী স্টেশন মাস্টার টুটুল চন্দ্র সরকার বলেন, আটককৃতদের আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে আটক ব্যাক্তিদের কাছে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য এর আগে স্টেশনে কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এক নারী যাত্রীকে লাঞ্চিত করার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হয়।

Leave Your Comments