গোলাম রব্বানী, হরিপুর প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়নে গরুর প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে গরুর খামারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। প্রাপ্ত তথ্য মতে সারা উপজেলায় এক হাজার দুইশত গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে বারোটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। যদিও সরকারি ভাবে ১২টি গরুর মৃত্যুর কথা স্বীকার করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক বেশি গরুর মৃত্যু হয়েছে। অনেক খামারী ও গৃহস্থ ‘লাম্পি স্কিন’ রোগে আক্রান্ত গরু কসাইদের কাছে বিক্রি করছেন কম দামে।‘লাম্পি স্কিন’ রোগ সারতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় বলে প্রতিপালকরা গোপনে কসাইদের কাছে কম দামে গরু বিক্রি করে দিচ্ছে। আর এই রোগাক্রান্ত গরুর গোস্ত উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। হরিপুর সদর উপজেলার হালেমা খাতুন গতকাল "বার্তা বিচিত্রা " এর প্রতিনিধিকে জানান যে, তার গোয়ালের মোট ৫টি গরুর মধ্যে ২টি বাছুরের পা ফুলে গায়ে ফোসকা বের হয়েছে। গায়ের গোস্ত পচে গর্ত হয়ে গেছে। পাঁচ হাজার টাকা খরচ করেও গরু সুস্থ হয়নি। উপজেলার গেদুড়া ইউনিয়নের মশিউর রহমান রাব্বু সরকার ও গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, তার হাল চাষের দুইটি বড় বলদের অবস্থা বেশ খারাপ। স্থানীয় চিকিৎসক দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হলেও সুস্থ হয়নি। উপজেলার বীরগড় গ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর জানান, তার একটি গাভী দুই মাস আগে এই রোগে আক্রান্ত হলেও ভালো হওয়ার লক্ষণ নেই। উপজেলার যাদবপুর গ্রামের খান সাহেব আলীর দুটি গরু ভুগছে লাম্পি স্কিন ডিজিজে। গরুগুলো সুস্থ করতে এক মাস তার চোখে ঘুম নেই। একই গ্রামের আইরিন আকতার এনজিও থেকে ঋন নিয়ে তিনটি গরু কিনেছিলেন। লাম্পি স্কিন ডিজিজে সংক্রমিত হয়েছে একটি গরু। গেদুড়া ইউনিয়নের খামারি ফারজানা বেগম, ছবেদা বেগম, ওয়ারেশ আলী ও মখলেস শেখ জানান, এই রোগ খুবই ভয়াবহ। দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা দিতে হয় বলে অনেকেই গরু পানির দরে বিক্রি করে দিচ্ছেন। হরিপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আবু কায়েস বিন আজিজ জানান, এই রোগের ফলে গরু খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ে। গায়ে গুটি গুটি ফোড়ার মতো হয়ে পেকে পুঁজ বের হয়। একটি গরু সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরও বলেন, অসুস্থ গরুটিকে প্রথমেই আলাদা করতে হবে এবং ২৪ ঘন্টা মশারি টানিয়ে রাখতে হবে, যাতে মশা- মাছি বা ডাশ তার শরীরে না বসে। কেননা মশা-মাছি বা ডাশ অসুস্থ গরুটিকে কামড় দিয়ে যদি সুস্থ কোনো গরুকে কামড়ায় তবে সেটিও অসুস্থ হয়ে পড়বে। তিনি আরও বলেন, উপজেলার ছয় ইউনিয়নের মধ্যে বর্ডার এলাকায় এ রোগ মহামারী আকারে বেশী ছড়িয়েছে, এখন নিয়ন্ত্রনে আছে। নতুন করে আর আক্রান্ত হচ্ছে না। আমরা ভ্যাকসিনেশর ব্যবস্থায় আছি।গত বছর জুলাই ,আগষ্ট মাসে দেখা দিয়েছিল এ বছর সেপ্টেম্বর মাসে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম বলেন, মূলত মশা ও মাছির মাধ্যমে ভাইরাসজনিত রোগটি সারা দেশে সম্প্রসারিত হচ্ছে। আগে এ ধরনের রোগ দেশে ছিল না। লাম্পি স্কিন ডিজিজের চিকিৎসায় গোট পক্সের ভ্যাকসিন প্রাথমিকভাবে কাজে লাগছে। তবে সেটাও সংকটে।দ্রত রোগটি প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত।