আব্দুল্লাহ
আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক): পর্ব- ০৩
ঢাকার নগরায়ণ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। কিন্তু এই নগরায়ণের সঙ্গে
সঙ্গে ভবন নির্মাণে রাজউকের নিয়ম-নীতি মানার প্রবণতা অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত
হচ্ছে। বিভিন্ন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও জমির মালিক রাজউকের নিময়কে “থোরাই কেয়ার”
করে নিজেদের স্বার্থে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে নগরায়ণ হচ্ছে বিশৃঙ্খল, বিপজ্জনক
এবং অন্যায্য। রাজউকের নিয়ম-নীতি মানা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং নগর জীবনের
নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বের জন্য অপরিহার্য। পুরান ঢাকায় নির্মানাধীন ভবনে বিভিন্ন অনিয়ম
বিষয়ে উপর্যুক্ত শিরোণামে “বার্তা বিচিত্রা” পত্রিকায় ইতোমধ্যে পর পর দুইটি
প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহনে রাজউকের কর্মতৎপরতা লক্ষ্য
করা গেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
এ বিষয়ে বার্তা বিচিত্রার সরেজমিন অনুসন্ধানে এক ভয়াবহ চিত্র
উঠে এসেছে। পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের
অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন গড়ে ওঠা এখানে যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। নকশা ভঙ্গ,
অতিরিক্ত তলা নির্মাণ, খোলা জায়গা দখল- সবই চলছে প্রকাশ্যে। এভাবেই দাপটের সাথে
একের পর এক বহুতল ভবন নির্মাণ ক্ষেত্রে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠানের নাম “স্টুডিও প্রোপার্টিজ
লিমিটেড।” প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৮ তলা ও ১০ তলাসহ ডজনখানেক বহুতল ভবন
নির্মাণ কাজ শেষ করেছেন। তাদের বেশ কয়েকটি নির্মাণাধীন ভবনের কাজ চলমানও রয়েছে। যার
মধ্যে হাজারীবাগ মৌজাস্থিত লালবাগ থানা এলাকার আজিমপুর বটতলায় ১ টি, খাজে দেওয়ান
১ম ও ২য় লেনে ২ টি, ২০৪/১/বি, ভাট মসজিদ এলাকায় ১ টি, লালবাগ কেল্লার সামনে ১ টি,
৯১ নিউ পল্টনে ১ টি, ২৫/১ গণকটুলী এবং বিডিআর ১নং গেইট এলাকায় ৮ টি বহুতল ভবনসহ
তাদের রয়েছে অনেকগুলো প্রজেক্ট। এতগুলো ভবনের মধ্যে মাত্র ১ টি ভবনের রাজউক
প্ল্যান রয়েছে। বাকি কোনোটিরই প্ল্যান বা রাজউকের অনুমোদন নেই বলে জানা যায়।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র
লালবাগ এলাকায় অনুমোদন না নিয়ে রাজউককে পাশ কাটিয়ে এতগুলো ভবনের নির্মাণ কাজ কিভাবে
করা যায়! রাজউক থেকে কি কোনো খোঁজ-খবর রাখা হয় না, তারা কি কেউ পরিদর্শনে আসে না, জানতে
চাইলে স্টুডিও প্রোপার্টিজ লিমিটেড এর ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা মোস্তফা বলেন, “ওনারা
আসে যায়, আমারতো মনে হয় লুকোচুরির কিছু নাই যে, এইটারে (নির্মণাধীন ভবন) লুকাইয়া থুইয়া
দিলাম। ধরেন আমি বলি, যখন নির্মাণ কাজ চলে, তখন ওরা আসে, আইলে কিছু খরচপাতি দিয়া দেই,
যায় গিয়া, শ্যাষ।” তাদের ২.৭৫ কাঠা জায়গার উপর নির্মাণাধীন ৯ তলা একটি ভবনের সবগুলো
ছাদ হয়ে গেছে। ৪ তলা পর্যন্ত আস্তর/প্লাষ্টার হয়ে গেছে, এখন ৬ তলা থেকে গাথুনীর কাজ
চলছে। এটির বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যানেজার মোস্তফা বলেন, “শুরু থেকেই ওরা (রাজউক পরিদর্শক)
আসে, আইসা বলে যে ভাই, এইটার পারমিশন নাই, বিল্ডিং নির্মাণ কাজ করতাছেন ক্যান, কাজ
বন্ধ রাখেন। তখন আমরা কাগজ (ছাড়পত্র) দেখাই, যদি বলে যে, অফিসে যাইতে, অফিসে যাই, অফিসে
যাইয়া একটা সমাধান কইরা থুই, এই পর্যন্তই শ্যাষ।”
এ বিষয়ে রাজউক পরিদর্শক
মো. শাহিন আরিফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নির্মানাধীন ভবনে নেটিশ প্রদান
এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।” খরচপাতি দেয়া-নেয়ার
বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এগুলো ওনারা মুখস্ত কথাবার্তা বলেন, তাদের দায় এড়ানোর
জন্য বিভিন্ন কথাবার্তা বলেন, এর কোনোটাই সত্য না।”
মোস্তফার বক্তব্য
অনুযায়ী তাদের নির্মাণাধীন একটি ভবন, পৌঁনে ৩ কাঠা জায়গার উপর ৯ তলা করা হচ্ছে। প্রতি
তলায় ২ টি করে ফ্ল্যাট রাখা হয়েছে। যার একটির আয়তন ৯৬৫ বর্গফুট, অন্যটি ৯৪০। পৌনে তিন
কাঠা জায়গার পরিমান হচ্ছে ১৯৮০ বর্গফুট। এখানে বিক্রয়ের জন্য প্রস্তাবিত ফ্ল্যাটের
আয়তন (৯৬৫+৯৪০) = ১৯০৫ বর্গফুট। বাকি রইলো (১৯৮০-১৯০৫) = ৭৫ বর্গফুট। তাহলে রাজউক নির্ধারিত
“ফার এবং সেটব্যাক” কোথায়? প্রশ্ন হচ্ছে, পৌনে ৩ কাঠা জায়গার উপর ৯ তলা ভবন নির্মাণে
রাজউকের নির্দেশনা কী রয়েছে এবং এখানে স্টুডিও প্রোপার্টিজ লিমিটেড কী করেছে! এগুলো
দেখভাল করবার দয়িত্ব কার এবং তিনি কিভাবে দেখভাল করছেন! বিস্তারিত দেখুন পরের পর্বে।