মোঃআলামিন হোসেন তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ফসলি জমির প্রাণপ্রকৃতি রক্ষায় এবার মধ্যরাতে বড় ধরনের অ্যাকশনে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। এক শ্রেণির অসাধু সিন্ডিকেট প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে কৃষি জমি কেটে পুকুর খনন অব্যাহত রাখায়, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দিবাগত রাতভর ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পুকুর খননের প্রধান অস্ত্র ৫টি ‘ভেকু’ (এক্সকাভেটর) মেশিন জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে গত কয়েকদিন ধরে অবৈধ পুকুর খননের অভিযোগ আসছিল। এরই প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের একটি বিশেষ দল শুক্রবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে ভেকু মেশিন আটকের পাশাপাশি খনন কাজে ব্যবহৃত গাড়ি থেকে ১০টি বড় ব্যাটারি এবং এক ব্যারেল ডিজেল জব্দ করা হয়। তবে আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে অসাধু চক্রের হোতারা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় কৃষি অফিস ও ভুক্তভোগী কৃষকদের মতে, নির্বিচারে পুকুর খননের ফলে তাড়াশে আবাদি জমির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমছে। জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে নষ্ট হচ্ছে আশেপাশের শত শত বিঘা জমির ফসল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক জানান, প্রভাবশালী এই চক্রটি সাধারণ কৃষকদের প্রলোভন বা চাপ দিয়ে কৃষি জমি ধ্বংস করছে।
অভিযান শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, "কৃষি জমি আমাদের জাতীয় সম্পদ। কোনো অবস্থাতেই ফসলি জমিতে অবৈধ পুকুর খনন সহ্য করা হবে না। অসাধু চক্র যত শক্তিশালীই হোক, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনস্বার্থে এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও ঝটিকা অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"
প্রশাসনের এই কঠোর অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, শুধু সরঞ্জাম জব্দ নয়, বরং এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে এই ধ্বংসযজ্ঞ স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে।