শেখ রাসেল বিশেষ প্রতিনিধি:
আশুলিয়ার জামগড়ার দ্বি-রোজ গার্মেন্টস সংলগ্ন মোসাঃ তাজলিমা বেগম এর একটি ৫ তলা বাড়ি এবং সেই সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এক নারী ও তার পরিবারের ওপর নির্যাতন ভয়ভীতি এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে এবং আশুলিয়া থানায় দাখিল করা একাধিক লিখিত অভিযোগ পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
থানার নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারী একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় আলাদা আলাদা সময়ে মোট চারটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগগুলোতে উঠে এসেছে মারধর, ঘরে অনধিকার প্রবেশ ভাঙচুর, টাকা আদায়ের চাপ এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর বিষয়।
ভুক্তভোগী জানান, বাড়ি ও ভিত্তিহীন পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে তার বাসায় বারবার হানা দিচ্ছে। অভিযোগপত্রে নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা একাধিকবার জোরপূর্বক বাসায় ঢুকে নারী সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
একাধিক অভিযোগে উল্লেখ আছে, মারধরের কারণে ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের কথাও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, মানসিকভাবে চাপে রাখতে নিয়মিত হুমকি ও ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
থানায় দাখিল করা লিখিত থেকে জানা যায় অভিযুক্তরা কোন ধরনের দেনা পাওনা না থাকলেও পাওনা টাকা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে চাদার অর্থ দাবি করে আসছে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে ঘর ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হবে এবং আরও ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে লেখা আছে।
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীকে বলেন আমরা সাধারণ মানুষ। বারবার থানায় গেছি, লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তবুও তারা প্রকাশ্যে এসে হুমকি দেয়। পরিবার নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। অভিযোগপত্রগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনার ধরন এক নয়, কিন্তু উদ্দেশ্য এক - ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপে রেখে বসতবাড়ি ও সম্পত্তি ছেড়ে দিতে বাধ্য করা। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের সহিংস ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না এলাকাবাসীর একাংশও।
বারবার থানায় অভিযোগ করা হলেও আশা পুলিশ কর্মকর্তা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে পুলিশের তরফ থেকে ভুক্তভোগী কে বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও গণমাধ্যম কর্মীকে জানান ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগগুলো গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়গুলো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রশ্ন উঠেছে, একাধিক অভিযোগ দায়েরের পরও অভিযুক্তরা কীভাবে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে সে বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না।