সিরাজগঞ্জের বাহুকা ভূমি অফিসে ঘুষ–দুর্নীতির অভিযোগ, নামজারি ও খাজনায় অতিরিক্ত টাকা আদায় বাহুকা ভূমি অফিসে

Date: 2026-01-06
news-banner

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাহুকা ভূমি অফিসকে স্থানীয়রা ঘুষ ও দুর্নীতির “স্বরাজ্য” হিসেবে অভিহিত করছেন। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিয়ম মেনে এখানে কোনো ভূমি-সংক্রান্ত কাজ করা হয় না। 

নামজারি, খাজনা আদায়, জমিভাগ বা জমির পরচা তোলার জন্য প্রায়শই অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে। অফিসের সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা সীমিত হলেও দালালদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে প্রায় সব ভূমি-সংক্রান্ত কাজ। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দালালরা কাজের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণ করে, ফাইল চলাচলের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবী করে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে।

নামজারি: সরকারি ফি ১,১৫০– হলেও দালালদের মাধ্যমে খরচ দাঁড়ায় ৫,০০০–১০,০০০ টাকা। খাজনা ও জমির পরচা তোলা: সাধারণ ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৫০০–১,০০০ টাকা দিতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, “অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খাদিজা খাতুনের কাছে টাকা ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না। টাকা না দিলে ফাইলই খোলা হয় না। অনেকে টাকা দেওয়ার পরও মাসের পর মাস ঘুরে বেড়াচ্ছে।

দালালরা বিনা বেতনে কাজ করছে না। মাস শেষে তারা ভেতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থ ভাগাভাগি করে। এতে সাধারণ মানুষ শুধু হয়রানির শিকার হচ্ছে না, সরকারি রাজস্বও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার প্রতিনিধি বলেন, “ভূমি অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য সরকারের রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জনগণের আস্থা ফেরাতে দুদকসহ প্রশাসনের তৎক্ষণাৎ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা জরুরি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে তারা সমস্যার সম্মুখীন হলেও প্রশাসনের পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি ধীরগতিতে চলছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, দালাল সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা না হলে জনগণের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Leave Your Comments