আব্দুল্লাহ
আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির দুই বছর মেয়াদি জুনিয়র (৯ থেকে
১২ বছর) শাখার ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কোর্সের (২০২৪-২৫) সফল সমাপ্তি টানলেন
শিক্ষার্থীদের প্রিয় শিক্ষক মো. রাসু সরকার। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) লিখিত এবং
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মৌখিকভাবে শিক্ষার্থীদের চুড়ান্ত মূল্যায়নের মাধ্যমে শেষ
হলো এই পাঠদান পর্ব। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের
নিয়ে একটি আড়ম্বরপূর্ণ ক্লাস পার্টি ও বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন শিক্ষক রাসু
সরকার। সেখানে শিশু শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকের সাথে এক আনন্দঘন সময় কাটায়।
“আজ আর কোনো পড়াশোনা নয়, কেক কাটা, খাওয়া-দাওয়া এবং আনন্দে মেতে ওঠা।” এ সময়
শিশুরা কেউ গান গেয়ে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করে, আবার কেউবা কৌতুক উপস্থাপনা করে সবাই
মিলে শ্রেণিকক্ষকে আনন্দে পরিপূর্ণ করে তোলে।
শিক্ষার্থীদের চুড়ান্ত মূল্যায়ন ফলাফল যাই হোক, গত দুই
বছরে শিক্ষক রাসু সরকারের কাছ থেকে তারা যা অর্জন করতে পেরেছে, তাতে শিক্ষার্থী ও
অভিভাবকদের মাঝে আত্মতৃপ্তি ও আত্মপ্রসাদ লক্ষ্য করা গেছে।
একজন অভিভাবক এই ইংরেজি শিক্ষকের উদ্দেশ্যে বলেন, “বাচ্চাদের জীবনের এ সময় টা শেষ হয়ে
যাবে। তারা জীবনে একটা সময়ে গিয়ে এ মধুর স্মৃতি গুলো অনেক বেশি মিস করবে। আপনি তাদের
সময়টা আনন্দময় করে দিয়েছেন। বর্তমান সময়ে যেখানে বেশির ভাগ শিক্ষক বাচ্চাদের সাথে তিক্ত
সম্পর্কে জড়িয়ে যায় তখন আপনি এ বাচ্চাদের জীবনে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে রয়ে যাবেন
আজীবন।” শিক্ষার্থী তাহিয়া নাজাত ইস্পা বলেন, “স্যার আমার দেখা সবচেয়ে সৎ এবং অত্যন্ত
ভালো শিক্ষক। আমি স্যারকে আমার আদর্শ বলে মনে করি। বড় হয়ে আমি স্যারের মত হতে চাই।
তাঁর মতো দক্ষ শিক্ষক এর আগে আমি দেখিনি। তিনি আমাদের শুধুমাত্র ইংরেজি শেখাননি, শিখিয়েছেন
নানা আদর্শ এবং শৃঙ্খলা। তিনি আমার প্রিয় শিক্ষক হয়ে আছেন এবং থাকবেন।” শিক্ষার্থী
তুবা কাজী বলেন, “গত দুই বছরে আমাদের জন্য রাসু স্যারের যে পরিশ্রম, যত্ন আর ধৈর্য
ছিল, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তিনি আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিছেন। তাঁর
প্রতিটি শিক্ষা আমাদের আগামীর পথে শক্ত ভিত্তি হয়ে থাকবে। তাঁর মতো একজন শিক্ষক পেয়ে
নিজেকে সত্যিই সৌভাগ্যবান মনে করছি।” আরেক শিক্ষার্থী অরবিতা ইসলাম বলেন, “রাসু স্যারের
মতো নিবেদিতপ্রাণ ও আন্তরিক শিক্ষক হয়তো আমরা আর পাবো না। তাঁকে পেয়ে আমরা ভাগ্যবান।
তিনি আমাদের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। আল্লাহ স্যারকে সুস্থ ও সুন্দরময় জীবন দান
করুক।”
একজন অভিভাবক যিনি নিজেও শিক্ষক, রাসু স্যারের
প্রতি সালাম ও সুস্থতার দোয়া কামনা করে বলেন, “আমিও দীর্ঘ ১২ বছর শিক্ষকতা করেছি, কিন্তু
আমার মনে হচ্ছে তাঁর মতো করে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে প্রতিভা বিলিয়ে দিতে পারিনি। যা
তিনি মাত্র দু’বছরে আমার সন্তানকে দিয়েছেন। আমার সন্তানের মতো সকল ছাত্র-ছাত্রীর মনে
তিনি চির অম্লান হয়ে থাকবেন।” আরেক অভিভাবক বলেন, আমি নিজে যখন শিক্ষার্থী ছিলাম তখন
শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের গভীর আন্তরিক সম্পর্ক, যত্ন ও ভরসার বন্ধন দেখেছি। যা
স্মৃতির পাতায় চির অম্লান হয়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় পর একজন শিক্ষক ও তাঁর শিক্ষার্থীদের
মাঝে আজ আবার সেটি দেখছি, অনুভব করছি। যেখানে শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন মো. রাসু সরকার
এবং তাঁরই হাতে গড়া একঝাঁক শিশু শিক্ষার্থী। এদের মাঝে শিক্ষার্থী হিসেবে রয়েছে আমার
এক শিশু সন্তান রাইয়ান। তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই সুপ্ত প্রতিভা বা অমিত সম্ভাবনা
লুকিয়ে থাকে। যা তাদের একটি সহায়ক, শিশু-বান্ধব পরিবেশ এবং সঠিক পরিচর্যা ও দিকনির্দেশনার
মাধ্যমে বিকশিত হতে পারে। শিক্ষা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই সুপ্ত প্রতিভাকে
জাগিয়ে তোলা সম্ভব হয়, যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে সাহায্য করে। এ বিষয়ে একজন দক্ষ
শিক্ষকের গুরুত্ব অপরিসীম। আর এখানে এটি করে দেখিয়েছেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ইংরেজি
ভাষা শিক্ষা কোর্সের সন্মানিত শিক্ষক মো. রাসু সরকার। শিশু বয়সের একজন শিক্ষার্থী যে
সময়ে ‘মায়ের ভাষা’ বাংলা উচ্চারণে মুখের জড়তা কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খায়, সেখানে ওই বয়সে
মুখের জড়তা কাটিয়ে সাবলীল উচ্চারণে একটি ভিনদেশী ভাষা, তথা ইংরেজিতে অনর্গল কথা বলা
শিখিয়েছেন এই দক্ষ শিক্ষক। তিনি এখানে শিশুদের শুধু ইংরেজি ভাষাই শেখাননি, শিখিয়েছেন
শিষ্ঠাচার, শৃঙ্খলাবোধ, নৈতিকতাবোধ, ধৈর্য্য ও অধ্যবসায়। আর এসবের মধ্যে খুব চমৎকারভাবে
ফুটে উঠেছে একজন আদর্শ শিক্ষকের যাবতীয় গুণাবলী।
এই
অভিভাবক আরও বলেন, দুই বছরের স্বল্প সময়ে এই শিক্ষক তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও
নিষ্ঠার সাথে শিশুদের মনে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার যে ভিত্তি স্থাপন করে দিয়েছেন, তা
ওদের ভবিষ্যৎ জীবনে পাথেয় হয়ে থাকবে বলে আমি মনে করি। আমি জানতে পেরে আনন্দিত
হয়েছি যে, আমার ছেলে রাইয়ান তার বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষার উত্তরপত্রে “প্রিয়
শিক্ষক” রচনাটি তার একাডেমির ইংরেজি শিক্ষক মো. রাসু সরকারকে নিয়ে লিখেছে। আমি
দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি, ওর প্রিয় শিক্ষকের প্রতিটি বিষয় অন্যান্য শিক্ষার্থীদের
মতো করে ওর মনেও গভীর রেখাপাত করেছে। তাই ভবিষ্যতে আমারই মতো আমার ছেলে রাইয়ানের স্মৃতির
পাতায়ও তার প্রিয় শিক্ষক রাসু সরকার অম্লান হয়ে থাকবে। এই শিক্ষকের প্রতি রইল
সম্মান, আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা।
উল্লেখ্য,
বাংলাদেশ শিশু একাডেমি হলো দেশের শিশুদের প্রতিভা বিকাশ, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও
শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এটি ১৯৭৬
সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে মহিলা ও
শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় প্রথম
কার্যালয় হলেও পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে পুরাতন হাইকোর্ট এলাকায় স্থানান্তরিত করা হয়।
প্রায় ৩.৬৯ একর জমির উপর প্রশাসনিক ভবন, মিলনায়তন, যাদুঘর ও আর্ট গ্যালারি এবং
প্রকাশনা ও লেকচার থিয়েটার ভবন নিয়ে শাহবাগ থানাধীন দোয়েল চত্বর এলাকায় বাংলাদেশ
শিশু একাডেমির সদর দপ্তর অবস্থিত। সারাদেশে এর প্রায় ৭০ টি শাখা রয়েছে। ৬৪ টি জেলা
ও কিছু উপজেলায়ও এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে শিশু একাডেমিতে শিশুরা সংগীত,
নৃত্য, গিটার, তবলা, চিত্রাংঙ্কন ও সৃজন, নট্যকলা, দাবা, বাঁশি, বেহালা, আবৃত্তি ও
উপস্থাপনা শৈলী, সুন্দর হাতের লেখা, কম্পিউটার ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষা কোর্সের
মাধ্যমে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে পারছে।