পটুয়াখালী-৩ আসনে জোটের টানাপোড়েন: বিএনপির তৃণমূল সমর্থন পাচ্ছেন না ভিপি নুর

Date: 2026-01-11
news-banner



আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরোঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসন। জোট রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে এই আসনটি এখন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

বিএনপি-গণঅধিকার পরিষদের জোট থেকে মনোনয়ন পেলেও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক সহযোগিতা না পাওয়ায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তবে বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে বরিশাল বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা জোটপ্রার্থী নুরের পক্ষে প্রচারে নেমেছেন।

এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন। তাঁর ধারাবাহিক সাংগঠনিক তৎপরতায় তৃণমূল পর্যায়ে তিনি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে জোট গঠনের ফলে পটুয়াখালী-৩ আসনটি ছেড়ে দেয় বিএনপি এবং সেখানে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান নুরুল হক নুর।

এ সিদ্ধান্তে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাঁকে বহিষ্কার করা হলেও স্থানীয় পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মী প্রকাশ্যেই তাঁর পক্ষে অবস্থান নেন। ফলে জোটপ্রার্থী নুর কার্যত স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক সহায়তা পাচ্ছেন না।

নুরুল হক নুর বলেন,কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্থানীয় নেতারা ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি করছেন। এতে জোট রাজনীতির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি আমি শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছি।

অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিএনপিকে সংগঠিত করেছেন হাসান মামুন। অতীতে বাইরের প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়ার ফল নেতিবাচক হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলায় একাধিক প্রার্থী থাকায় সেখানে ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিপরীতে দশমিনা উপজেলায় একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকায় হাসান মামুন সেখানে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।

গত ১০ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশে কেন্দ্রীয় নেত্রী বিলকিস জাহান শিরিনসহ বিভাগীয় ও জেলা নেতারা নুরের পক্ষে জোরালো প্রচারে নামায় পরিস্থিতিতে নতুন মোড় এসেছে। তবে সব মিলিয়ে তৃণমূল বিএনপির সক্রিয় সমর্থন ছাড়া এই আসনে জোটপ্রার্থী নুরুল হক নুরের জয় কঠিন হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave Your Comments