আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরোঃ রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক সিদ্ধান্ত আর রাজনৈতিক দরকষাকষির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; জনগণের সরাসরি মতামতের মাধ্যমেই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রিয়াজ।
আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) বরিশাল বেলস পার্কে বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, দিনের ভোট রাতে হওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতেই আমরা গণভোটের পথে হাঁটছি। এই দেশে কথায় কথায় সরকার বদলের যে পুরোনো ইতিহাস রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে জনগণের রায়ই চূড়ান্ত হতে হবে।
তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি গণভোট সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। কয়েকটি দল এতে আরও দুটি প্রস্তাব যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দলগুলো নির্বাচনে বিজয়ী হলে এসব বাস্তবায়নে একমত হলেও চূড়ান্ত বৈধতা আসবে জনগণের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে।
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান বহুবার রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োগে পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৭৫ সালে মাত্র ১৭ মিনিটে সংবিধান সংশোধনের নজির রয়েছে। জনগণের দাবিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হলেও পরে তা বাতিল করা হয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল মোট ভোটের ৫০ শতাংশ অর্জন করতে পারেনি। ফলে উচ্চকক্ষে প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব ছাড়া সংবিধান সংশোধন করা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তাই গণভোটের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের বাইরের বিপুল জনগোষ্ঠীর মতামত নেওয়া অপরিহার্য।
রাষ্ট্রক্ষমতার সীমা নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে তা ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে এবং নিপীড়নের ঝুঁকি বাড়ে। এ কারণেই সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি টানা ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষমা প্রদর্শনের নামে বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে আমরা তামাশা হতে দেখেছি। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে ক্ষমা প্রদান করেন, বাস্তবে সিদ্ধান্ত আসে অন্য জায়গা থেকে।
তিনি বলেন, দেশের প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের সবাই রাজনৈতিক দলের কর্মী নন। রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ, আর তাদের মতামত জানার সবচেয়ে কার্যকর ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি হলো গণভোট।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত) মনির হায়দার এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।