মোঃ আসাদুজ্জামান:
বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের কালির তবক স্লুইস গেট থেকে রায়ের তবক হাই স্কুল (সাইক্লোন সেন্টার) পর্যন্ত সংযোগ সড়ক সংস্কার কাজে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) আওতাধীন এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির নির্মাণকাজে শিডিউলের তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের ফলে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী।
বাঁশবুনিয়া ইউজেডআর-রায়েরতবক হাই স্কুলের এই রাস্তাটির সংস্কার কাজ শুরু থেকেই বিতর্কের মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পাওয়ার পর কয়েক দফা হাতবদল বা 'লাইসেন্স বিক্রি' করেছে। দুই থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠানের হাত বদল হওয়ার কারণে লভ্যাংশের সিংহভাগ খরচ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে একগুচ্ছ অনিয়মের চিত্র পাওয়া গেছে। রাস্তার দুই পাশে মাটি ভরাটের বরাদ্দ থাকলেও কোনো কাজ করা হয়নি। এজিংয়ে ব্যবহৃত ইট অত্যন্ত নিম্নমানের, যা সামান্য বৃষ্টিতেই ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। শিডিউল অনুযায়ী উন্নতমানের পিচ ও পাথর ব্যবহারের কথা থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের রাবিশ ও খোয়া। বিটুমিনের পরিমাণও দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। পুরাতন কার্পেটিং না তুলে এবং রাস্তা পরিষ্কার না করেই তার ওপর পাতলা করে বিটুমিনের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। এতে রাস্তাটি কয়েক মাসের মধ্যেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাস্তার মধ্যবর্তী কালভার্টটিতে শিডিউল অনুযায়ী রড ব্যবহার করা হয়নি। রডের পরিমাণ অত্যন্ত কম হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচলের সময় এটি ধসে পড়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজ চলাকালীন উপজেলা প্রকৌশলী বা সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের (SO) উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছেমতো নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে প্রকল্পের প্রজেক্ট ডিরেক্টর (পিডি) বরাবর অভিযোগ জানালে তিনি বরিশাল বিভাগীয় একজন প্রকৌশলীর মাধ্যমে তদন্ত করান। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা মেলায় সদর উপজেলা প্রকৌশলী ও তার টিমকে কাজ সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “দীর্ঘ এক যুগ পর আমাদের এই অবহেলিত এলাকার রাস্তাটি অনুমোদিত হয়েছিল। আমরা আশা করেছিলাম স্বৈরাচারী শাসন পরবর্তী সময়ে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ১৭ বছরের সেই পুরনো ফ্যাসিবাদের কায়দায় লুণ্ঠন চলছে। অবিলম্বে এই নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে সিডিউল অনুযায়ী কাজ করার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে বরগুনা সদর উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটি টেকসই করার লক্ষ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।