মোঃ মাইন উদ্দিন :
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলাসহ আশপাশের উপজেলায় টানা দুই দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম আর আশা-ভরসার ফসল আজ পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে যেন এক গভীর হতাশার সৃষ্টি করেছে।
গত ২৮ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে ২৯ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত অব্যাহত ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তোলে। এই অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে নিচু জমিগুলো দ্রুত পানিতে ডুবে যায়। ফলে ক্ষেতের কাঁচা ও আধাপাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে স্থানীয় কৃষকরা।
মাত্র একদিন আগেও, ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত কৃষকের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। সোনালি ধানের শীষে ভরা মাঠ দেখে তারা স্বপ্ন দেখছিলেন ভালো ফলনের। কিন্তু প্রকৃতির আকস্মিক রুদ্ররূপ সেই স্বপ্নকে মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। এখন সেই মাঠে নেই সোনালি আভা, আছে শুধু পানি আর হতাশার প্রতিচ্ছবি।
এলাকার অনেক কৃষকই জানিয়েছেন, তারা ঋণ নিয়ে, ধার করে কিংবা জমি বন্ধক রেখে এই ফসল উৎপাদন করেছেন। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই এমন ক্ষয়ক্ষতি তাদের জীবনে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অনেকেই এখন দিশেহারা- কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন, কীভাবে পরিবার চালাবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনা, সহজ শর্তে ঋণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ করা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়াও জরুরি।
কুলিয়ারচরের এই চিত্র শুধু একটি কুলিয়ারচর এলাকার নয়, বরং এটি পাশ্ববর্তী উপজেলাসহ হাওরাঞ্চলেরও সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থার ভঙ্গুরতারই একটি প্রতিফলন। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, এই চিরন্তন সত্যকে সামনে রেখে তাদের স্বপ্ন রক্ষায় আমাদের সকলেরই এগিয়ে আসা প্রয়োজন।