রুয়েটে নবায়নযোগ্য শক্তি ও শিল্পখাতে গ্রিন ট্রানজিশন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

Date: 2026-04-30
news-banner

রুয়েট প্রতিনিধি:

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) শিল্পখাতে সবুজ রূপান্তর, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা নিয়ে 'পিএসআরইএফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এনার্জি চ্যালেঞ্জ: ডিজাইনিং আ গ্রিন ট্রানজিশন' শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে রুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট স্টাডিজ (আইইইএস) এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ২১৭ নম্বর কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আবদুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইইইএস-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, আইকিউএসি'র অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মাহমুদ শাহজাদ, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার, পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান এবং সিপিডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

স্বাগত বক্তব্যে আইইইএস-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, "সৌরশক্তির ব্যবহার ব্যয়বহুল হওয়ায় এখনো তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েনি, তবে বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এটি আর ঐচ্ছিক নয়, এটি এখন একমাত্র কার্যকর সমাধান। সৌরশক্তিকে মূলধারার টেকসই জ্বালানি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার এখনই উপযুক্ত সময়।"
ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, "নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। এ খাতে গবেষণা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ দ্রুত সামনে এগিয়ে যেতে পারবে।" তিনি আরও জানান, উপাচার্যের নেতৃত্বে নেসকোর সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, পিএসআরইএফ বা প্রাইভেট সেক্টর রিনিউয়েবল এনার্জি ফোরাম হলো সিপিডির পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি স্টাডিজ বিভাগের একটি বিশেষ অ্যাডভোকেসি উদ্যোগ। সিপিডি এবং তারা ক্লাইমেট প্রজেক্টের সহায়তায় এটি বেসরকারি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। এ উদ্যোগের আওতায় বিকেএমইএ, বাপা, এলএমএফএমবিএ ও বিটিএসহ রপ্তানিমুখী বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আর্থিক ও কারিগরি নানা সমস্যার বিষয়গুলো সামনে এসেছে।

সেমিনারের অংশ হিসেবে সবুজ ও টেকসই জ্বালানি বিষয়ক কেস স্টাডি এবং উদ্ভাবনী সমাধান উপস্থাপনের জন্য একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মোট ৩৩টি দল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, প্রাথমিক বাছাইয়ে ২৬টি এবং চূড়ান্ত পর্বে ১০টি দল উপস্থাপনের সুযোগ পায়। চূড়ান্ত পর্বে রুয়েটের ৭টি, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ২টি এবং আহসানিয়া মিশনের ১টি দল তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরে। অংশগ্রহণকারীদের উপস্থাপিত সমাধানগুলো বাংলাদেশের শিল্পখাতকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করে তুলতে সহায়ক হবে এবং তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলার পথ আরও প্রশস্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বিচারকমণ্ডলীর মূল্যায়নে রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের 'টিম এভারফ্রেশ' প্রথম স্থান অর্জন করে। প্রথম রানারআপ হয় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের 'টিম অপচয় জিরো' এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের 'টিম গ্রিনারি গ্রিড'। বিজয়ী দলে ছিলেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শুব্র দেবনাথ এবং ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইমতিয়াজ আহমেদ লিসান, দিবাকর মণ্ডল রুদ্র ও মো. শুয়াইব বিন সাফি।

সমাপনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. এস. এম. আবদুর রাজ্জাক বলেন, "উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জ্বালানি খাতে গবেষণা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনের মাত্রা বাড়ানো অপরিহার্য। এ খাতে সফল হতে হলে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই পথ বেছে নিতে হবে।"

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি বিজয়ীদের হাতে 'PSREF Innovator Award' তুলে দেন এবং আইইইএস-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। 

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের কার্যক্রম তরুণদের মধ্যে জ্বালানি সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, গবেষণামুখী মানসিকতা গড়ে তোলা এবং একটি টেকসই আগামী গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

Leave Your Comments