আব্দুল কাইয়ুম আরজু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীতে একদিনেই বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় এক নারীসহ ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত দুই দিনে জেলাজুড়ে বজ্রাঘাতে অর্ধশতাধিক গবাদিপশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— কলাপাড়া উপজেলার তারিকাটা গ্রামের জহির উদ্দিন (২৮), পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামের সেতারা বেগম (৫৫), শান্তিপুর গ্রামের খালেক হাওলাদার (৫৫) এবং রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা গ্রামের সৌরভ মজুমদার (২২)।
স্থানীয় সূত্র ও থানা পুলিশ জানায়, নিহতরা সবাই বৃষ্টি ও বজ্রপাত চলাকালীন অসচেতনভাবে ঘরের বাইরে অবস্থান করছিলেন। জহির উদ্দিন দুপুর ১টার দিকে ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতের শিকার হন। দুপুর ২টার দিকে সেতারা বেগম মাঠে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে এবং একই সময়ে খালেক হাওলাদার মাঠ থেকে গরু নিয়ে আসার পথে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান। এর আগে সকাল ৯টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার সৌরভ মজুমদার মাঠে গরু বাঁধতে গিয়ে নিহত হন।
মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর ওপর দিয়েও বড় দুর্যোগ বয়ে গেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৫০টি গরু বজ্রপাতে মারা গেছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে গবাদিপশু হারিয়ে স্থানীয় প্রান্তিক কৃষক ও খামারিরা এখন চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে নিহতদের বাড়িতে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে না বের হতে এবং সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, বজ্রপাত শুরু হওয়ার পরেও মাঠে কাজ করা এবং গবাদিপশু দ্রুত নিরাপদ স্থানে না সরিয়ে নেওয়ার ফলেই হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।