মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে চীন ও ইরান। এ ধারাবাহিকতায় চীনের রাজধানী বেইজিং-এ বৈঠকে বসেছেন দেশ দুটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
বুধবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার বরাতে জানা গেছে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন।
এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বিরোধ, নৌ–অবরোধ এবং সামরিক তৎপরতা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
চীন বরাবরই এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে এবং কূটনৈতিক সমাধানকে গুরুত্ব দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের এই বৈঠক সেই প্রচেষ্টারই অংশ।
বেইজিং সফরের আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাশিয়া সফর করেন। সেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর সঙ্গে বৈঠক করেন।
মস্কো সফরের পরপরই বেইজিং সফরকে অনেকেই একটি ধারাবাহিক কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, যেখানে ইরান তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো ধারণা করছে, বৈঠকে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে সেগুলো হলো—
-
ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতি
-
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাত
-
জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সহযোগিতা
-
বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক সমাধানের পথ
চীন বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশ এবং ইরান তার একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অংশীদার। ফলে এই সম্পর্ক অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই বৈঠককে শুধু দ্বিপক্ষীয় নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের বাইরে বিকল্প কূটনৈতিক জোট গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও চীন–ইরান ঘনিষ্ঠতা একটি বড় ইঙ্গিত বহন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, সিনহুয়া