প্রবাসী ছেলে মাকে বলেছিলেন ঈদে বাড়ি আসবেন, রিয়াদে মারা গেলেন দুর্ঘটনায়

Date: 2026-05-06
news-banner

নিজস্ব প্রতিনিধি:

কোরবানির ঈদে দেশে ফেরার কথা ছিল ২৫ বছর বয়সী প্রবাসী শাওন মির্জার। মাকে সেই প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—ঈদের আগেই সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই তরুণ। তাঁর মৃত্যুতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

শাওন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত জাহিদ মির্জা ও ঝর্ণা বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে এবং চার ভাই–বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে প্রায় আড়াই বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। রাজধানী রিয়াদে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি মায়ের সঙ্গে কথা বলে শাওন জানিয়েছিলেন—ভিডিও কলে আর মন ভরছে না, এবারের ঈদুল আজহার আগেই দেশে ফিরবেন। কিন্তু সেই অপেক্ষা আর পূরণ হলো না।

স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় রিয়াদে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাসা থেকে স্থানীয় বাজারে যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি খেজুরগাছের সঙ্গে ধাক্কা খান শাওন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তিনি মারা যান। সকাল ১০টার দিকে তাঁর সহকর্মীরা ফোনে পরিবারের কাছে মৃত্যুসংবাদ পৌঁছে দেন।

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন মা ঝর্ণা বেগম। তিন বোনসহ পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। পরিবারের একটাই আকুতি—শেষবারের মতো যেন শাওনের মুখ দেখতে পারেন। দ্রুত তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী জানান, শাওন বৈধভাবে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ক্ষতিপূরণ দেবে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনার পর প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে ৩ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। পরিবার চাইলে মরদেহ দেশে আনার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সরকার বহন করবে বলেও জানান তিনি।

Leave Your Comments