বছরের পর বছর অপেক্ষা, ব্যর্থতা আর প্রত্যাশার ভার—সবকিছু মিলিয়ে একদিন আসে এমন মুহূর্ত, যা বদলে দেয় একটি ক্লাবের ইতিহাস। যেমনটা হয়েছিল আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল-এর ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ে কিংবা লিভারপুল-এর ৩০ বছর পর লিগ শিরোপা জয়ে। এবার সেই তালিকায় নাম লেখানোর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আর্সেনাল।
প্রিমিয়ার লিগ-এর শিরোপা লড়াইয়ে এখন এগিয়ে আর্সেনাল। ম্যানচেস্টার সিটি এভারটনের বিপক্ষে পয়েন্ট হারানোর পর লিগের ভাগ্য অনেকটাই গানারদের হাতে চলে এসেছে।
অন্যদিকে ইউরোপেও দারুণ ছন্দে আছে দলটি। সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদ-কে হারিয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ-এর ফাইনালে। সামনে এখন সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ পিএসজি অথবা বায়ার্ন মিউনিখ।
এখন বাকি মাত্র চারটি ম্যাচ—এই চার ম্যাচ জিতলেই আর্সেনাল গড়তে পারে ইতিহাস। ২২ বছর পর লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার এবং প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দলের মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস বলেন,
“গত কয়েক বছরে আমরা অনেক কঠিন সময় পার করেছি। কোচ সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এনে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন। এখন আমরা ভালো অবস্থানে আছি।”
২০১৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর মিকেল আরতেতা ধীরে ধীরে দলটিকে গড়ে তুলেছেন। টানা তিন মৌসুম রানার্সআপ হওয়ার হতাশা কাটিয়ে এবার শিরোপার খুব কাছে পৌঁছে গেছে আর্সেনাল।
আরতেতা বলেন,
“আমাদের এমন মানে পৌঁছাতে হবে, যেখানে বড় ক্লাব হিসেবে নিয়মিত শিরোপার জন্য লড়াই করব।”
-
২৪ মে: ক্রিস্টাল প্যালেস মাঠে প্রিমিয়ার লিগের সম্ভাব্য শিরোপা নির্ধারণ
-
৩০ মে: বুদাপেস্টে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল
এই এক সপ্তাহই বদলে দিতে পারে আর্সেনালের ১৪০ বছরের ইতিহাস।
ফাইনালে ওঠার পর খেলোয়াড় ও কোচদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো ছিল। তবে এই উদ্যাপনকে সমালোচনা করেছেন ওয়েইন রুনি। তাঁর মন্তব্য,
“তারা এখনো কিছু জেতেনি। জিতলে তখন উদ্যাপন করাই ভালো।”
আর্সেনালের সামনে এখন স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা শেষ ধাপ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সমর্থকদের সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত কি আসবে? উত্তর মিলবে খুব শিগগিরই।