বিপ্লব ইসলাম, লংগদু (রাঙ্গামাটি):
রাঙ্গামাটির লংগদুতে লংগদু সরকারি মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ওসমান গণির বিরুদ্ধে তারই ডাক্তার মেয়েকে হত্যাচেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ডা. জান্নাত দাবি করেছেন, টাকার দাবিকে কেন্দ্র করে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ডা. জান্নাত জানান, গত ২ মে ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে তার বাবা ব্যক্তিগত কাজের কথা বলে তার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি এত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তার স্বর্ণালঙ্কার নিতে জোর করা হয় এবং আলমারি ভাঙার চেষ্টা চালানো হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, আলমারি ভাঙতে ব্যর্থ হয়ে তার বাবা হাতুড়ি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার মাথা ও কপাল ফেটে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তার মা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় তার মাথায় ১০টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
ডা. জান্নাত আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই তার বাবা-মা তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। তাকে সমাজে মানসিক রোগী হিসেবে পরিচিত করা, সংসার ভাঙার চেষ্টা, এমনকি বিষাক্ত বা অজানা ওষুধ খাওয়ানোর চেষ্টাও করা হয়েছে বলে দাবি তার। এসব ঘটনায় তার মা, একই কলেজের প্রভাষক রোকেয়া বেগমও জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, আমি একজন ডাক্তার হিসেবে নিয়মিত চেম্বার করি। অথচ আমাকে মানসিক রোগী বলা হচ্ছে। যদি তাই হত, তাহলে আমি কীভাবে চিকিৎসা দিচ্ছি?
অতীতে তার শিক্ষাজীবনেও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি জানান, ফাইনাল পরীক্ষার সময় তাকে পরীক্ষা দিতে না দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি চাকরিরত হাসপাতাল থেকে জোরপূর্বক তাকে বাসায় নিয়ে এসে পরবর্তীতে পাগল আখ্যা দিয়ে চেম্বার করতে বাধা দেওয়া হয়।
বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তিনি বাড়িতে ফিরতে পারছেন না বলে জানান এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেন। তিনি বলেন, ঘটনার দিন থানায় গেলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ ওসমান গণি বলেন,আমার মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ। সে প্রায়ই এমন আচরণ করে। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। মারধরের বিষয়ে তিনি এটিকে পারিবারিক বিষয় বলে এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকারিয়া জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। তবে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।