ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় চাপে থাকা ট্রাম্প সাফল্যের পথ খুঁজতেই কি চীনে যাচ্ছেন

Date: 2026-05-12
news-banner

Donald Trump এক বছর আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, কঠোর বাণিজ্য শুল্ক আরোপের মাধ্যমে তিনি চীন–কে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলবেন। তবে আদালতের রায়, চলমান আন্তর্জাতিক সংকট এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন তার সেই অবস্থানকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

১৪ ও ১৫ মে চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping–এর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গত অক্টোবর দুই দেশের বাণিজ্যযুদ্ধ স্থগিত হওয়ার পর এটিই হবে দুই নেতার প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বেইজিং–এ।

বিশ্লেষকদের মতে, এবার ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য আর চীনকে “নতজানু” করা নয়; বরং সীমিত কিছু বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করা এবং ইরান যুদ্ধের সমাধানে বেইজিংয়ের সহযোগিতা পাওয়া।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়–এর অধ্যাপক আলেজান্দ্রো রেয়েস বলেন, “এক অর্থে এখন ট্রাম্পেরই চীনকে বেশি প্রয়োজন, চীনের ট্রাম্পকে নয়।”

দুই নেতা গ্রেট হল অব দ্য পিপল–এ শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেবেন। এছাড়া ইউনেসকো ঘোষিত ঐতিহ্যবাহী স্থান টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শন এবং রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেওয়ার কথাও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প বর্তমানে এমন একটি কূটনৈতিক সাফল্য খুঁজছেন, যা দিয়ে তিনি দেখাতে পারবেন যে তিনি শুধু বৈশ্বিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন না, বরং স্থিতিশীলতাও ফিরিয়ে আনতে চান।

গত কয়েক মাসে ট্রাম্প প্রশাসন একের পর এক সংকটে জড়িয়ে পড়ে। আদালতের বাধায় চীনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত শুল্ক বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি সংকট তার জনপ্রিয়তায়ও প্রভাব ফেলেছে।

ReutersIpsos–এর জরিপ অনুযায়ী, ৬০ শতাংশের বেশি মার্কিন নাগরিক ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করছেন না।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প এখন চাইছেন চীন যেন ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে প্রভাবিত করে। কারণ চীন ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির তেলের বড় ক্রেতা।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মার্কিন উপ–জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন ম্যাট পটিংগার। তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চীনের অর্থনীতির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

অন্যদিকে, চীনের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে সামনে এসেছে তাইওয়ান ইস্যু। বেইজিং চায়, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থী অবস্থানকে আর উৎসাহিত না করুক।

ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়–এর অধ্যাপক উ জিনবো বলেন, ট্রাম্পের উচিত স্পষ্ট করে জানানো যে তিনি তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করবেন না।

এদিকে চীনও নিজেদের অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াতে বিরল খনিজ রপ্তানি ও প্রযুক্তি খাতে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। এতে পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও অস্ত্রশিল্পে চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক থেকে বড় কোনও ঐতিহাসিক চুক্তি না এলেও সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখা এবং চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতির মেয়াদ বাড়ানোই ট্রাম্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে।

Leave Your Comments