ইরান হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করায় নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের সামুদ্রিক জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় বিষয়টি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরান ও ওমানের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত এবং এর ভবিষ্যৎ পরিচালনায় দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করছে। তবে প্রণালিতে টোল আরোপ ও জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন বিধিনিষেধের সম্ভাবনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো।
পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, ইরানের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের পরিপন্থী এবং এর ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। এ ছাড়া প্রতিটি জাহাজকে ইরানি মুদ্রায় অর্থ পরিশোধের শর্ত আরোপ করা হলে তা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে।
এদিকে Oman এখনো প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান জানায়নি। অন্যদিকে United States ও China উভয়ই হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে চীনের জ্বালানি আমদানির বড় অংশ এই পথনির্ভর হওয়ায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নতুন ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ (পিজিএসএ) কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।