মোঃআল-আমিন হোসেন, তাড়াশ উপজেলা প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় মোছা. তাহমিনা খাতুন (৩৫) নামে এক পোশাককর্মী নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মো. আমিরুল ইসলাম নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত তাহমিনা খাতুন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (তারিখ) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের সরাবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় চার বছর আগে সাংসারিক প্রয়োজন মেটাতে তাহমিনা খাতুন স্থানীয় বাসিন্দা আমিরুল ইসলামের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঋণের বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে চড়া হারে সুদ পরিশোধ করে আসছিলেন তিনি। তবে পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে কয়েক মাস ধরে সুদের টাকা দিতে না পারায় উভয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
পরিবারের দাবি, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত তাহমিনা খাতুন ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে আসেন। এ খবর পেয়ে রোববার রাতে আমিরুল ইসলাম তার বাড়িতে গিয়ে সুদসহ পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। একপর্যায়ে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে আমিরুল তাহমিনাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
তাহমিনার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে প্রথমে তাড়াশ ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “তাহমিনা আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। আমি শুধু পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তাগাদা দিয়েছি। তাকে মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “সুদের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারী আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।