আরাকানের পথে: সীমান্তবাসীর কান্না, ল্যান্ডমাইনের আতঙ্কে বিপর্যস্ত নাইক্ষ্যংছড়ির পাশে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি।

Date: 2026-06-04
news-banner

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি।

বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তে সাম্প্রতিক ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে নিহত ও আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক Abu Sayeed Mohammad Suza Uddin এবং এনসিপি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।

সম্প্রতি সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ইউনিয়নের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পরিদর্শনকালে তারা নিহতদের স্বজনদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই ঘুমধুম ইউনিয়নের বাসিন্দা, যারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকার অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করে আসছেন।

পরিদর্শনকালে আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি সীমান্ত এলাকায় নাগরিক নিরাপত্তা জোরদার, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং ল্যান্ডমাইন ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় তিনি তুমব্রু চাকমাপাড়ার ২৮ বছর বয়সী যুবক অংপ্রো (Aung N Thaing Chakma)-এর সঙ্গে কথা বলেন। ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে তিনি একটি পা হারিয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। নিজের জীবনের সেই বিভীষিকাময় ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। তার ভবিষ্যৎ, কর্মজীবন এবং পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানান।

একই সঙ্গে নেতৃবৃন্দ ল্যান্ডমাইনে গুরুতর আহত এক ১২ বছর বয়সী শিশুর পরিবারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। বিস্ফোরণে শিশুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। সন্তানের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অসহায় পিতা-মাতার উৎকণ্ঠা ও কান্না উপস্থিত সবাইকে ব্যথিত করে।

এ ছাড়া একই গ্রামের তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন হারানোর বেদনায় পরিবারগুলো আজ নিঃস্ব ও হতবিহ্বল। সীমান্তের প্রতিটি ঘর যেন আতঙ্ক, শোক ও অনিশ্চয়তার ভার বহন করছে।

এনসিপি নেতৃবৃন্দ বলেন, সীমান্ত এলাকায় বারবার ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, উন্নত চিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

ঘুমধুম, তুমব্রু ও আশপাশের সীমান্ত জনপদে বর্তমানে মানুষের জীবন ভয় ও অনিশ্চয়তায় আচ্ছন্ন। প্রতিদিন জীবিকার প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষকে আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করতে হয়। সীমান্তবাসীর দাবি—তাদের নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা এবং জীবন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

সীমান্তের এই নীরব কান্না শুধু কয়েকটি পরিবারের নয়; এটি বাংলাদেশের সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের প্রশ্ন। আজ সময় এসেছে এই জনপদের মানুষের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে জাতীয়ভাবে গুরুত্ব সহকারে ভাবার।

Leave Your Comments