ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও একটি চায়ের দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চার ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
রোববার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত থলিয়ারা গ্রামে এ সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, থলিয়ারা গ্রামের মিন্দান আলী বা ছোট গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন মো. জোবায়ের এবং ভূঁইয়া বাড়ি বা মধ্যি বাড়ি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন মো. জয়নাল আবেদীন। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
গ্রামের শিরু মিয়ার একটি চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় একটি সালিসে দোকানটি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হলেও এক পক্ষ এর বিরোধিতা করে। এ নিয়ে রোববার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অনেকের মাথায় হেলমেট ও বুকে প্রতিরক্ষা জ্যাকেট ছিল। তাদের হাতে বল্লম, এককাইট্টা, লাঠি, রামদা, ছুরি ও চায়নিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কয়েকটি দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষ একপর্যায়ে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়ক ও আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সড়কটিতে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের একজনের শরীরে ধারালো অস্ত্র বিদ্ধ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশের একাধিক দল এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেলা ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নাটাই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী ভূঁইয়া বলেন, চায়ের দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কয়েক দিন আগে সালিসে দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হলেও একটি পক্ষ তা মানতে রাজি হয়নি।