মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে পারে। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে ইরান বলেছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের এক সমঝোতায় পৌঁছেছি। চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি যতটুকু বুঝেছি, উত্তর হলো হ্যাঁ।”
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আলোচনায় থাকা চুক্তির খসড়ার বেশির ভাগ বিষয়ে সমঝোতা হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এখনো পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করছে। ইরানের কাছে অগ্রহণযোগ্য কোনো শর্ত মেনে নেওয়া হবে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত নিরসনে এটি একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। যুদ্ধের কারণে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, যেকোনো শান্তিচুক্তির অন্যতম শর্ত হবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা উৎপাদন থেকে বিরত রাখা। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানের দাবির মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি।
সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক তৎপরতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ সম্ভাব্য চুক্তিকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় হওয়া কোনো সমঝোতা স্মারকের পক্ষ নয় ইসরায়েল।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য এই চুক্তি এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।