জাকারিয়া হত্যা: নাহিদের অতীত, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও অদৃশ্য আশ্রয়দাতা নিয়ে প্রশ্ন

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধ :

সাতক্ষীরার বহুল আলোচিত কলেজছাত্র জাকারিয়া খান হত্যা মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসানের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, নাহিদ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তার অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখলে বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনায় তার নাম ও সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে আসে।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও নাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মামলা থেমে থাকেনি। ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল শহরের ‘ফুচকা বাংলা’র পরিচালক আজিজুল ইসলামকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগেও নাহিদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছুরিকাঘাতসহ আরও কয়েকটি ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ রয়েছে।

তাহলে প্রশ্ন উঠছে একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ ও মামলা থাকার পরও কীভাবে তার বেপরোয়া কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকল?

আরও বড় প্রশ্ন, ২০২৪ সালের পরও নাহিদের এই বেপরোয়া জীবনযাপনের নেপথ্যে কি কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছিল?

যদি থেকে থাকে, তাহলে সেই আশ্রয়দাতা কারা—এখন সেটিই খুঁজে বের করা জরুরি।

জাকারিয়া হত্যাকাণ্ডের পর সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের মধ্যে শুধু হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের নিয়েই নয়, বরং নাহিদের মতো ব্যক্তির উত্থানের পেছনে কোনো অদৃশ্য শক্তি কাজ করেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সাতক্ষীরাবাসীর দাবি একটাই—শুধু আসামিকে গ্রেপ্তার করলেই হবে না। আসামির উত্থান ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের পেছনে যদি কোনো আশ্রয়দাতা, পৃষ্ঠপোষক কিংবা প্রভাবশালী শক্তি লুকিয়ে থাকে, তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও জনসম্মুখে আনতে হবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

শুধু অপরাধীকে শনাক্ত করলেই অপরাধের শিকড় উন্মোচিত হয় না; অপরাধীর পেছনে থাকা শক্তিকে চিহ্নিত করাও ন্যায়বিচারেরই অংশ।