প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
সময়: ১০:২৮ পিএম
রেল প্রকল্পে বালাস্ট সরবরাহে ১৬ কোটি টাকার অডিট আপত্তি বিল, পরিমাপ ও অর্থ পরিশোধ নিয়ে টালবাহানা
মো: সানি, ঢাকা:
ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে বালাস্ট সরবরাহ ও বিল পরিশোধ নিয়ে ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৩৬ টাকা ৩২ পয়সার অডিট আপত্তি উঠেছে। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের SFISFI Audit-এ বালাস্ট সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধের বিষয়টি অডিট আপত্তির আওতায় আসে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকল্প কোড ২২৪০৮৯২০০-এর আওতায় ‘ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের ৩য় ও ৪র্থ ডুয়েল গেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের বালাস্ট সরবরাহ, পরিমাপ, মান যাচাই এবং বিল পরিশোধসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি অডিটের আওতায় এসেছে।
অডিট আপত্তিতে উল্লেখিত বিপুল অঙ্কের অর্থের দাবির ভিত্তি, সংশ্লিষ্ট বিল এবং হিসাব নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে IPC ৬২ থেকে ৭৮ পর্যন্ত বিলের বিপরীতে কত পরিমাণ বালাস্ট সরবরাহ করা হয়েছে, কী একক দরে বিল প্রস্তুত করা হয়েছে এবং মোট কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে—এসব তথ্যের সঙ্গে অডিট আপত্তির যোগসূত্র রয়েছে।
প্রকল্পের বালাস্ট সরবরাহের ক্ষেত্রে Measurement Book (MB) বা Measurement Sheet-এ কী পরিমাণ বালাস্ট পরিমাপ করা হয়েছে এবং সেই পরিমাপ কীভাবে যাচাই ও প্রত্যয়ন করা হয়েছে, সেটিও অডিটের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট Measurement Certificate, Measurement Statement কিংবা Abstract of Measurement-এর মাধ্যমে সরবরাহকৃত বালাস্টের পরিমাণ নির্ধারণ ও বিল প্রস্তুতের বিষয়টি যাচাই করা হয়ে থাকে।
এ ছাড়া বালাস্ট সরবরাহের বিপরীতে Delivery Challan, Goods Receipt, Material Receipt এবং Ges Material বা Stock Register -এ কী ধরনের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা-ও বিল পরিশোধের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। এসব নথির ভিত্তিতে বাস্তবে সরবরাহকৃত উপকরণের পরিমাণ এবং বিলের পরিমাণের মধ্যে সামঞ্জস্য যাচাই করা যায়।
অন্যদিকে, IPC 62–78-এর বিপরীতে Bill Passing Sheet, Abstract Bill, Payment Advice, Voucher ও অন্যান্য হিসাব নথির মাধ্যমে বিল অনুমোদন এবং অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ফলে অডিট আপত্তির অর্থের সঙ্গে এসব বিল ও অর্থ পরিশোধের নথির সম্পর্ক রয়েছে।
বালাস্টের মান নিয়েও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ যাচাইয়ের বিষয়। প্রকল্পের নির্ধারিত Specification অনুযায়ী বালাস্টের মান পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, পরীক্ষার পর Quality Certificate, Test Certificate বা Laboratory Test Report দেওয়া হয়েছে কি না এবং এসব পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বিল অনুমোদন করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও যাচাইয়ের আওতায় রয়েছে।
বালাস্ট গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী বা Consultant-এর দেওয়া Measurement Certificate, Acceptance Certificate কিংবা Material Acceptance Certificate-এর মাধ্যমে সরবরাহকৃত উপকরণের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে। এ ধরনের নথি থাকলে তা বিল পরিশোধের প্রক্রিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে সম্পর্কিত।
অডিট আপত্তির জবাবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে Audit Reply দেওয়া হয়ে থাকলে সেখানে আপত্তির কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যা এবং কর্তৃপক্ষের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালক, প্রকৌশলী, Consultant , হিসাব কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাদের লিখিত ব্যাখ্যা বা মতামত থাকলে তা থেকেও অডিট আপত্তির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য কোনো তদন্ত, পরিদর্শন, কারিগরি বা যাচাই কমিটি গঠন করা হয়ে থাকলে সেই কমিটির কার্যপরিধি, প্রতিবেদন ও সুপারিশও বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একইভাবে পরবর্তীতে বালাস্টের পরিমাণ বা মান নিয়ে পুনঃপরিমাপ, পুনঃপরীক্ষা, পুনঃপরিদর্শন কিংবা কারিগরি যাচাই করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট Test Report, Measurement Record ও সিদ্ধান্তও অডিট আপত্তির নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখে।
অডিট আপত্তির পর কোনো অর্থ ফেরত, বিল সমন্বয়, বিল কর্তন, অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা অন্য কোনো আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট হিসাব ও আদেশের মাধ্যমে তার প্রতিফলন থাকার কথা। একইভাবে কোনো কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, Consultant বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দায় নির্ধারণ কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকলে সেটিও অডিট আপত্তির পরবর্তী কার্যক্রমের অংশ।
এদিকে, অডিট আপত্তিটির সর্বশেষ অবস্থা—নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, অনিষ্পন্ন রয়েছে কি না কিংবা আংশিক নিষ্পত্তি হয়েছে কি না—তা-ও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে Audit Status বা Disposal Report এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে আদান-প্রদান করা পত্রাচার থেকে আপত্তিটির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে বালাস্টের মতো নির্মাণসামগ্রীর সরবরাহ, পরিমাপ, মান যাচাই এবং বিল পরিশোধের প্রতিটি ধাপ যথাযথ নথিপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৩৬ টাকা ৩২ পয়সার অডিট আপত্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিল, পরিমাপ, সরবরাহ ও অর্থ পরিশোধের নথিপত্রের সামঞ্জস্যই হয়ে উঠেছে মূল বিষয়।